Current Bangladesh Time
মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » বরিশালের অসমাপ্ত সেতু এখন মরণফাঁদ! 
Saturday June 13, 2026 , 7:21 pm
Print this E-mail this

৮ বছরেও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বরিশালের অসমাপ্ত সেতু এখন মরণফাঁদ!


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতীর ঘিরে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় পর্যটন করিডোরের অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁদমারি খেয়াঘাট এলাকার একটি অসমাপ্ত সেতু। প্রায় আট বছর আগে নির্মিত হলেও সাগরদি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির এক পাশে এখনো সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী বাঁশ-কাঠের স্ল্যাব ব্যবহার করে পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। প্রতিদিন বিকেলে ত্রিশ গোডাউন ও চাঁদমারি খেয়াঘাট এলাকায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা সেতুর কাছে এসে বাধাগ্রস্ত হন। কেউ ছবি তুলে ফিরে যান, আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, এ অবস্থার কারণে ইতোমধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ একাধিক ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কীর্তনখোলা নদীর তীর ধরে বেলতলা খেয়াঘাট, ডিসিঘাট, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, কেডিসি, চাঁদমারি খেয়াঘাট থেকে ত্রিশ গোডাউন ও গ্যাসটারবাইন এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে ভিড় করলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় পর্যটনের সম্ভাবনা পূর্ণতা পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেডিসি থেকে চাঁদমারি খেয়াঘাট পর্যন্ত নদীতীর ধরে কোনো প্রশস্ত ওয়াকওয়ে বা শহররক্ষা বাঁধ নেই। নদীপাড়ের হাঁটার পথের অনেক অংশ দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের চলাচলও সীমিত হয়ে গেছে। এদিকে চাঁদমারি খেয়াঘাটে আধুনিক ঘাট নির্মাণ করে ইজারা দিলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব নিজেদের নয় বলে জানিয়েছে নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহররক্ষা বাঁধের উন্নয়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও সেতু-সংক্রান্ত অবকাঠামোর দায়িত্ব বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, শহররক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ডিসিঘাট, কেডিসি ও চাঁদমারি খেয়াঘাট অংশেও কাজ করা হবে। তবে সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। নগর পরিকল্পনাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর একটি সেতু অসমাপ্ত পড়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও পর্যটন সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং হাঁটার উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের মতে, ডিসিঘাটের ভাটার খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুর পরিবর্তে সম্প্রতি লোহার সেতু নির্মাণের পর সেখানে মানুষের চলাচল বেড়েছে। একইভাবে চাঁদমারি খেয়াঘাটের সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও নদীতীর উন্নয়ন করা হলে কীর্তনখোলা নদীকেন্দ্রিক পর্যটন নতুন গতি পাবে।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কীর্তনখোলা নদীতীরকে পরিকল্পিত ওয়াটারফ্রন্ট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। অন্যথায় ঘাট ও সেতু থাকলেও অপূর্ণই থেকে যাবে রূপসী বরিশালের নদীতীর ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।




Archives

Image
বরিশালে প্রহসনের সালিশের দুইদিন পরই যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু
Image
বরিশালে ভূমি অফিসে ৩১ নামজারির আবেদন পেন্ডিং, দুই কর্মকর্তাকে শোকজ
Image
বরিশালে শ্যালিকার সাথে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যা, এলজিইডি প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন
Image
বরিশালে বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোরিকশা, চালকসহ আহত ৩
Image
বরিশাল নগরীতে গাঁজা মানিকসহ গ্রেফতার ৩