|
তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
মোমেন সিকদার বিএনপির কেউ নন
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিগত ফ্যাসিবাদের দোসর শহিদুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ব-ঘোষিত নেতা মোমিন সিকদারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা ভবনের সামনে সাধারণ ঠিকাদার ও ভূক্তভোগীদের মানববন্ধন চলাকালীন সময় নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে মানব বন্ধনে বাঁধা প্রদান করেন মোমেন সিকদার নামের এক ঠিকাদার সর্বদলের ঠিকাদার। এ সময় তিনি ব্যানার ধরে টানাটানি করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ভুক্তভোগী ও আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে শিক্ষা ভবনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভূক্তভোগীরা। মানববন্ধন চলাকালীন ঠিকাদার মোমেন সিকদার নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে হঠাৎ মানববন্ধনে বাঁধা প্রদান করেন। তিনি ব্যানার টানাটানি করে কর্মসূচি পন্ড করার চেষ্টা করেন। একই সময় তিনি (মোমেন) সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন এবং তাদেরকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে। অপরদিকে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে মোমেন সিকদার একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান ও মানববন্ধনে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন। ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন—মোমেন শিকদার বিএনপির কোন স্তরের নেতা? বিএনপির নাম ব্যবহার করে এই বাঁধা দানের অধিকার তার নাই। দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রকৌশি অধিদপ্তরের কাজের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে ফোন বা সরাসরি তার বক্তব্য জন্য অফিসে আসলে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এই মোমিন সিকদারকে ডেকে সাংবাদিকদের হুমকি ভিয়ভীতি দেখাত। উক্ত বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মোমিন সিকদারের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলে ও রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উক্ত বিষয়ে জানতে বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, মোমিন সিকদার স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ না। তবে ফ্যাসিষ্টের দোসর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী বিরুদ্ধে মানব বন্ধনের সময় বাধা প্রধান করা ঠিক হয়নি। তবে সে সাবেক যুব দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন।তবে এখন তার কোন পদ পদবী কিছুই নেই। উক্ত বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, মোমিন সিকদার কিসের বিএনপি নেতা সে আমাদের দলের কোন লোক না। সে যদি কোন দূর্নীতির সহায়তা করে কারো কাছে বিএনপি নেতা পরিচয় দেয় সে যেন আমাকে ফোন করে তারপর আমি ব্যবস্থা নিব। ওর পরিবারের সবাই ফ্যসিষ্টের অনুসারী ওর ভাই শহীদ সিকদার আ’লীগের সময় কাউন্সিলর ছিল।ও সর্বদলীয় লোক সব সময় ফায়দা নেওয়ার জন্য দলের নাম ভাঙ্গিয়ে খায়। উক্ত বিষয় জানতে চাইলে বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, মোমিন সিকদার বিএনপির কেউ না ও ফ্যাসিষ্টের দোসর। সে যদি দূর্নীতির খবর প্রকাশের বা বিএনপি নেতা পরিচয়ে সাংবাদিক কে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে আমরা তাকে সহায়তা করব। আমরা চাই, অতি দ্রুত বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশী অধিদপ্তর ফ্যাসিষ্টমুক্ত হোক। অবিলম্বে দুদক নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একইসাথে বিএনপির পরিচয় ভাঙিয়ে অপকর্ম করা ঠিকাদার মোমেন সিকদারের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
Post Views: ০
|
|