প্রচ্ছদ » স্লাইডার নিউজ » বরিশালে চাঁদাবাজির মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কারাগারে
Thursday September 24, 2026 , 2:11 pm
সাত আসামির মধ্যে দু’জন গ্রেপ্তার, বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে : ওসি
বরিশালে চাঁদাবাজির মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কারাগারে
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালে বাজারে চাঁদাবাজি এবং ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় মামুন বেপারী নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামুন বেপারী বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং ভাটারখাল কলোনির বাসিন্দা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক মামুন বেপারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর কাশিপুর ফিশারি রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার মামুন বেপারী বরিশাল বহুমুখী সিটি পাইকারি কাঁচা বাজারে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি। বুধবার দুপুরে তাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার চাঁদাবাজি এবং আড়তদারের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ধর্মঘট শুরু করেন নগরীর ভাটারখাল এলাকার বহুমুখী সিটি পাইকারি কাঁচাবাজারে ৭৪ জন আড়তদার। এ কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত বরিশালের একমাত্র পাইকারি কাঁচাবাজার থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সবজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভুক্তভোগী আড়তদাররা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আড়তদার এবং কর্মচারীদের ওপর হামলা করতো পার্শ্ববর্তী ভাটারখাল বস্তির কতিপয় লোক। যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন ব্যাপারী ও তার দুই ছেলে মুন্না বেপারী ও রাহুল বেপারী। তারা অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন ও তার দুই ছেলে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়তে আসা বেপারীদের ট্রাক আটকে করে চাঁদা নেন তারা। প্রতিবাদ করলে আড়তদারদের মারধর করা হয়। তারা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে মামুন ও তার ছেলেরা বহিরাগত নিয়ে বাজারের সবচেয়ে পুরানো ব্যবসায়ী শাহ্ আলম বাণিজ্যালয়ের মালিক শাহ্ আলম মিয়াকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দিবাগত রাত থেকে বাজারে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট শুরু করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও বুধবারও দিনভর ফাঁকা ছিল বাজার। তবে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করায় বুধবার থেকে পাইকারি কাঁচা বাজারের শুরু হয়। ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতেই মামুনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। মামলায় আরও এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।