Current Bangladesh Time
বুধবার সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসল দৈত্যাকৃতির মৃত তিমি 
Wednesday June 3, 2026 , 5:10 pm
Print this E-mail this

মৃত তিমিটি অন্তত ৪৫ ফুট লম্বা, প্রস্থ অবস্থানভেদে ৬-৮ ফুট

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসল দৈত্যাকৃতির মৃত তিমি


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে ঝাউবাগান এলাকায় ভেসে আলো দৈত্যাকৃতির একটি মৃত তিমি। বিকেলে তিমিটি ভেসে সৈকতের বেলাভুমে আটকে গেছে। এটি অন্তত ৪৫ ফুট লম্বা। প্রস্থ অবস্থানভেদে ৬-৮ ফুট। মৃত তিমিটির শরীরে পচন ধরেছে। দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সকাল আনুমানিক দশটার দিকে মৃত তিমিটি প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে সাগরে ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে সৈকতের কিনারে ভেসে আসে। কুয়াকাটার পরিবেশ সংগঠক কেএম বাচ্চু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিমিটি বেলিন প্রজাতির বলে তিনি মনে করছেন। এটি ৭/৮ দিন আগে মারা যেতে পারে। মৃত তিমিটি লম্বা আনুমানিক ৪০-৪৫ ফুট আর প্রস্থ স্থানভেদে ৬-৮ ফুট হতে পারে। বনবিভাগ মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমাদের বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্লুঅ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, তিমিটি অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। তবে শুধুমাত্র বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, রোগ সংক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে তিমিটির মৃত্যু হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নেক্রোপসি (ময়নাতদন্ত) ও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সামুদ্রিক প্রাণিবিশেষজ্ঞ ও গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, কুয়াকাটা সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে যে মৃত তিমিটি পাওয়া গেছে, তার বাহ্যিক আকৃতি, রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি ইন্দো-প্যাসিফিক লংম্যানস বিকড হোয়েল। সাধারণত এ প্রজাতির তিমি ভারত মহাসাগর, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সংলগ্ন উষ্ণ সমুদ্র অঞ্চলে বিচরণ করে। তিমিটির চামড়ার রং কিছুটা লালচে, ঠোঁট তুলনামূলক লম্বাটে এবং এর ফ্লিপারগুলো ছোট ও গোলাকার আকৃতির। এরা সাধারণত ২৭ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার উষ্ণ সমুদ্র অঞ্চল পছন্দ করে। খাদ্যের সন্ধানে অনেক সময় দলবদ্ধভাবে উপকূলীয় এলাকায়ও চলে আসে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের তিমির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত তিমিটি কোনো জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে মারা যেতে পারে। এছাড়া সমুদ্রে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, নৌযানের নেভিগেশন সিস্টেমের শব্দ বা অন্যান্য দূষণও এ ধরনের তিমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিমিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানতে বায়োপসি ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে, স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটির সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, তিনি খবরটি জেনেছেন। প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।




Archives

Image
বরিশালে কারখানা খুলে দেওয়া ও বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
Image
তিন বছর পর সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির পাওনা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করল সমকাল
Image
বরিশালে ভাড়া বাসায় মিলল আইনজীবী সহকারীর রক্তাক্ত মরদেহ
Image
পিরোজপুরের কাউখালীতে বিশেষ অভিযান : কার্তুজ, ওয়াকিটকি ও ভুয়া পুলিশ আইডিসহ যুবক গ্রেপ্তার
Image
বরিশাল কাউনিয়া থানার মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ দিনে ২২ জন আটক, ১১৫৭ দিনের কারাদণ্ড