মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা দাতা-গ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নিচ্ছেন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জমির মূল্য পরিশোধের পর নিরুপায় ক্রেতাকে বৈধ-অবৈধ দু’খাতে টাকা দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে দলিল সম্পাদনকালে দিতে হয় ‘অফিস খরচ’। আর কথিত ওই অফিস খরচই হলো সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নির্ধারণ করা ঘুষ। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে জানা গেছে, সরকারি ফি পরিশোধের পর ওই অফিস খরচ দিয়েই এখন সাধারণ মানুষজনকে দলিলপত্র রেজিস্ট্রি করতে হয়। সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মোহরার ফেরদৌসী একজন সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় টাকা নেওয়ায় ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাধারণত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন ব্যাংক চালানের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অফিসের কর্মচারীদের নগদ টাকা লেনদেন উপস্থিত জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করে। টাকা নেওয়ার বিষয়ে মোহরার ফেরদৌসী বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা খরচ নেওয়া হয়েছে। কিসের ফি নিয়েছেন তার সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। কারণ পে-অর্ডার ব্যতীত কোনো অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীরা ও কয়েকজন দলিল লেখক মিলে ঘটনার সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য নিষেধ করে বলে কী হয়েছে দেখছি যা ভিডিওতে দেখা যায়। এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকল নবিশ জানায়, দলিলপ্রতি জেলা রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টাকা দিতে হয়। স্থানীয়রা জানান, বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। জমির দলিল করতে আসা এমন কোনো মানুষ নেই যাদের কাছ থেকে টাকা না নেয়। ১ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এটার একটা সিন্ডিকেট আছে যার মাধ্যমে ভাগবাটোয়ারা হয়। আমরা চাই মানুষ যাতে এগুলো থেকে রক্ষা পায়। এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার মো: যুবায়েরের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি কিসের টাকা নিয়েছেন তার সাথে আলোচনা না করে কিছু বলা যাবে না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদার জানান, এটি উপজেলা পরিষদের আওতায় না, এটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব যাতে তারা বিষয়টি সমাধান করেন।