|
শুরু থেকেই ছিল নানা বিতর্ক, আলোচনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
বরিশালে মঞ্চ সাজিয়েও উদ্বোধনী দিনে বন্ধ হলো বাণিজ্য মেলা
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালে বহুল আলোচিত ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ আয়োজন ঘিরে শুরু থেকেই ছিল নানা বিতর্ক, আলোচনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। অবশেষে উদ্বোধনের আগমুহূর্তে আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে গেল এই বাণিজ্য মেলা। শুক্রবার (মে ২২) নগরীর পরেশ সাগর মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বিকেলের দিকে আদালতের নির্দেশনার খবর পৌঁছালে হঠাৎ করেই থমকে যায় পুরো আয়োজন। বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি এবং জেলা প্রশাসককে বিশেষ অতিথি করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, স্টল সাজসজ্জা এবং অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থাও সম্পন্ন করা হয়।

মেলার আয়োজন করেন, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও বিএনপির অন্যতম নেতা এবায়দুল হক চান। তবে শুরু থেকেই এই আয়োজন নিয়ে গোটা নগরজুড়ে ছিল নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে মেলার কাজ শুরু, স্কুল মাঠে আয়োজন, দেশব্যাপী বিদ্যুতের টানাপোড়েনের মধ্যে এমন আয়োজন, আইনি বৈধতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভাব—সব মিলিয়ে বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এর আগে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে মেলা স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন এবায়দুল হক চান। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, উচ্চ আদালত থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তার বক্তব্যে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশেই বন্ধ হয়ে যায় আয়োজনটি। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিকেই এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়নি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নিজেও জানিয়েছেন, তিনি এ আয়োজনের কোনো নিমন্ত্রণ পাননি। জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই পরেশ সাগর মাঠ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের স্টল সাজিয়ে পণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেন। মঞ্চে অতিথিদের নাম সম্বলিত ব্যানারও টানানো হয়। কিন্তু বিকেলের দিকে আদালতের নির্দেশনার খবর পৌঁছালে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো আয়োজন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৬২৯১/২০২৬ এর নির্দেশনার আলোকে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত এই মেলা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২১ মে ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো: মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠির অনুলিপি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালি মডেল থানা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়। মেলা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তাদের অভিযোগ, স্টল ভাড়া, পরিবহন ও পণ্য আনার পেছনে তারা উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন। শেষ মুহূর্তে মেলা বন্ধ হওয়ায় তারা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নগরবাসীর একাংশের প্রশ্ন, একটি বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভাব দেখা গেল? আবার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর পেছনের কারণ নিয়েও চলছে আলোচনা। এ বিষয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কথা বলতে রাজি হননি জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনও। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজকরা আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে এ ধরণের আয়োজন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে তা হতে হবে প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনি স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে। অন্যথায় এমন আয়োজন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ উদ্যোক্তারাই।
Post Views: ০
|
|