মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র এবং প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পোর্ট রোড। দিনের আলোয় এখানে চলে কোটি টাকার ব্যবসা, কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। হোটেল ব্যাবসার আড়ালে এখানে চলে মাদকের রমরমা কারবার আর অসামাজিক কার্যকলাপের মেলা। স্থানীয়দের কাছে এই এলাকার হোটেল স্বাগতম ও সি-প্যালেস এখন যেন অপরাধের এক স্বর্গরাজ্য। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে হোটেল স্বাগতমে সাঁড়াশি অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার হয় ২২ পিস ইয়াবা, হাতেনাতে আটক করা হয় দুজনকে। এর আগে ২০২৫ সালের ৫ ই অক্টবর একই মালিকের মালিকানাধীন হোটেল সি-প্যালেস থেকেও ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেছিল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত এক বছরে এই দুই হোটেলে অন্তত ৫ বার বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিবারই ধরা পড়ছে মাদকসেবী ও অসামাজিক কাজে জড়িতরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে-মূল হোতারা কোথায়? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে-এই পুরো অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন হোটেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা হোটেল মালিক শিপন। পুলিশের হাতে খুচরা মাদক কারবারি ও পতিতা ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন শিপনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের ওপর ওত পেতে থাকে তার দালাল চক্র, যারা খদ্দের সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এই অন্ধকার ডেরায়। শিপনের ছত্রছায়ায় বারবার একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এর আগেও ২০২৫ সালের ৩০ শে জুলাই হোটেল স্বাগতম থেকে ৬০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছিলো পুলিশ। এছাড়াও একই এলাকার শিপনের মালিকানাধীন বিভিন্ন হোটেল থেকে বহুবার পতিতা নারীসহ অসামাজিক কাজে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে বারবারই পার পেয়ে যাচ্ছেন শিপন। এ ব্যাপারে শিপনের সাথে কথা বলতে চাইলে স্পষ্ট কোনো উওর মেলেনি, সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যায়।নগরীর পোর্ট রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন নোংরা কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পরিবার নিয়ে চলাচলকারী মানুষ প্রতিনিয়ত পড়ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। নষ্ট হচ্ছে বরিশালের সামাজিক পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হলেও, সচেতন মহলের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন-শুধু ছিঁচকে অপরাধী নয়, অপরাধের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এই হোটেলগুলোর লাইসেন্স চিরতরে বাতিলসহ হোটেল মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক। তবেই কলঙ্কমুক্ত হবে বরিশাল।