|
“জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়” : পুলিশ
মোবাইল চুরির ঘটনায় বরিশাল কাউনিয়া পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের হয়রানি ও ৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারের আশায় স্থানীয়দের মাধ্যমে আটক এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর উল্টো মোবাইলের মালিক ও তার স্বজনকে থানায় আটকে রেখে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বরিশাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট এলাকায় একটি স্ব—মিলের কর্মচারী আবুল হোসেনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় জমীর নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমামুল ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন জমীর, মোবাইলের মালিক আবুল হোসেন এবং তার আত্মীয় রিন্টুকে থানায় নিয়ে যান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ তুলে আবুল হোসেন ও রিন্টুকে আটকে রাখা হয়। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারের আশায় তারা স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। কিন্তু পরে তাদেরই বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তাদের ডোপ টেস্ট করানোর কথা বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে থানা থেকে মুক্তি পেতে তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চাইতে গিয়ে একজন ভুক্তভোগীকে কেন থানায় আটকে থাকতে হবে এবং তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগই বা কেন উঠবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই ইমামুল বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।” কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টা দুঃখজনক। আমি দেখছি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে ওসির বক্তব্য নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ভুক্তভোগীদের থানায় ডেকে পাঠান অভিযুক্ত এসআই ইমামুল—এমন অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, থানায় ডেকে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে তারা যেন আর কোনো কথা না বলেন, সে জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে এসআই ইমামুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Post Views: ০
|
|