মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল বরিশাল নগরীতে তরুণীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি ভয়ঙ্কর ‘হানিট্র্যাপ’ সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানাযায়, এই চক্রের মূল হোতা ও মাস্টারমাইন্ড রাব্বি, সামিয়া ও বৃষ্টি নামের যুবক-যুবতী। রাব্বি নিজেকে কথিত ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ ও মহানগর জিয়া মঞ্চের সভাপতি এবং প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশাল নগরীর স্ব-রোড এলাকার কমিশনার গলির আজাদ হোসেনের মালিকানাধীন বাসা ভাড়া নিয়ে হানিট্র্যাপের মত অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে। এই চক্রের নারী সদস্যদের ফাঁদে পড়ে জিম্মি হন বাকেরগঞ্জ দূর্গাপাশা ইউনিয়নের দুই যুবক। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে কৌশলে ২১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে থেকে মূল কলকাঠি নেড়েছে রাব্বি ও তার সহযোগীরা। ঘটনাস্থাল থেকে জানা যায়, রাব্বির নেতৃত্বে ৬-৮ জনের একটি সুসংগঠিত দল বরিশাল শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাসা-বাড়িতে এই অনৈতিক ফাঁদ পেতে রেখেছে। চক্রের নারী সদস্যরা প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়। এরপর রাব্বির নির্দেশে চক্রের অন্য সদস্যরা আকস্মিক হানা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের মারধর করে। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে সামিয়া নামের আরেক নারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তারা টার্গেট করা ব্যাক্তিকে তাদের নির্ধারিত বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে দলের অন্য সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে। দুইজন ভুক্তভোগী বলেন হানিট্র্যাপের নামে আমাদের কাছ থেকে প্রথম নগদ ১১ হাজার পরে ঘরের ভিতর জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের (০১৭১২—০৮৩) মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। হানিট্র্যাপের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাব্বি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলে সবাই টাকা ভাগ করে নিয়ে গেছি, আমি পারি আমার ৩ হাজার টাকা ফেরত দিতে, পরে প্রতিবেদক বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে মীমাংসার করার কথায় ৫ হাজার ও পরে ১৩ হাজার টাকা দিতে সম্মত হয়। মীমাংসার নামে তালবাহানা করে রাত দীর্ঘ করে মীমাংসা না করে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে রাব্বি। বাসার মালিকের কাছে জানতে চাইলে বাসা মালিক আজাদ হোসেন বলেন, আমি এই বিষয় জানি না। তবে ৪ দিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে এক সাংবাদিক জানিয়েছিল দুই মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। আর আমি বাসা ভাড়া দিয়েছি ইব্রাহিম নামে এক নওমুসলিমের কাছে সে আর তার মা থাকে। আমার সামনে ও একদিন একটা মেয়ে পড়েছে। তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে এড়িয়ে চলে যায়। আমি বিষয়টি থানাকে অবহিত করে তাদেরকে বাসা ছাড়ার জন্য বলে দিব। আমার বাসা ভাড়া নিয়ে এমন কাজ কোনভাবে করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”