|
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরগরম নির্বাচনী আলোচনা, নড়েচড়ে বসেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা
বিসিসি নির্বাচন : কে পাচ্ছেন নৌকার টিকেট? চাচা-ভাতিজাসহ ৫ জনে চান নৌকা
ফাহিম ফিরোজ, অতিথি প্রতিবেদক : দরজায় কড়া নাড়ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। নড়েচড়ে বসেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিএনপি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা আর নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার দোটানায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল। তাই রাজনীতির আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে। যে মনোনয়ন পাবে সে বসবেন মসনদে, এমনা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে । বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের চেয়ারে কে বসছেন তা ১২ জুন নির্ধারিত হবে। তবে তার আগে কে পাচ্ছেন স্বপ্নের সোনার হরিণ খ্যাত ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে জোড় লবিং তদবিরে রয়েছেন ৫ নেতা। এরা হলেন-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ্’র চাচা আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সমাজসেবক মাহমুদুল হক খান মামুন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ও বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মঈন তুষার। এছাড়া আরও একজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনিও চাইতে পারেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন। এর মধ্যে আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত, মাহমুদুল হক খান মামুন, জসিম উদ্দিন গত রোববার (এপ্রিল ৯) আওয়ামীলীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। গতকাল (এপ্রিল ১০) বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ্র পক্ষে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। বাকীরা সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ কালের মধ্যে বাকীরাও সংগ্রহ করবেন দলীয় মনোনয়ন। সাদিক আব্দুল্লাহ্’র পক্ষে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের খবর নিশ্চিত করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর হোসাঈন জানান, সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তার বিকল্প প্রার্থীর প্রস্তাব করবে না নগর আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন দৌড়ে কে থাকবেন এগিয়ে। কার কাঁধে উঠবে নৌকার বৈঠা। রোববার (এপ্রিল ৯) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রির নির্ধারিত সময় লক্ষ্য করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইব। তিনি দিলে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমি কি করব তা নির্ভর করে দলীয় প্রধানের ওপর। মাহামুদুল হক খান মামুন বলেন, দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। জমাও দিবো। দল মনোনয়ন দিলে ভোটের মাঠে থাকব। তিনি আরও জানান, আমি ১৯৮০ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হই। দীর্ঘ ৪৩ বছর পরিক্রমায় কখনো নৌকা ছেড়ে যাইনি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে লড়াই করেছি। মানুষের জন্য কাজ করতে পছন্দ করি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন দিয়ে নগরবাসী ন্যূনতম সেবা পাচ্ছে না। তারা এই অবস্থার পরিবর্তন চায়। আরেক প্রার্থী মঈন তুষার সাংবাদিকদের বলেন, বিগত পাঁচ বছরেও নগরবাসীর আশা পূরণ করতে পারেনি বর্তমান মেয়র। জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণের স্বার্থেই আমি নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইব। আশাকরি, দুঃসময়ের পরীক্ষিত একজন ছাত্রনেতা হিসেবে নেত্রী আমার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। একটি সূত্র জানিয়েছেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ্’ র জনবিচ্ছিন্নতা, আওয়ামী লীগে বিভাজন সৃষ্টি, নগরীর উন্নয়ন করতে না পারা, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দূরত্ব এবং বাসিন্দাদের ওপর অস্বাভাবিক কর আরোপ-এই পাঁচটি বিষয় তুলে ধরে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। উল্লেখ্য, আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
Post Views: ০
|
|