পিরোজপুর কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘ’র ৫দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব শুরু
মো: সজিব হোসেন ফরাজী : পিরোজপুর জেলার কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের ৫দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব বুধবার (১৩ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে।
শ্রীগুরু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমদ্ দূর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেব এর ১২৮তম আবির্ভাব উপলক্ষে রাস পূর্ণিমায় প্রতিবছর এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দিনের এ উৎসবকে ঘিরে দেশ ও বিদেশের লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা থেকেও ভক্তবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে সমবেত হবেন। এ উপলক্ষে কাউখালী জনপদ এখন মুখরিত। শ্রীগুরু সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বামী জগন্নাথানন্দ সরস্বতী বুধবার সকালে আশ্রম অংগনে সংঘ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। এর পর পরই একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের শহড়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে আশ্রম প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। উক্ত শোভাযাত্রায় কাউখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল হক, কাউখালী থানা অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহাম্মেদ সুমন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুব্রত রায়, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অলক কর্মকার, সেচ্ছা সেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক লাইকুজ্জামান মিন্টু সহ ভক্তবৃন্দ র্যালীতে অংশগ্রহণ করেন। বিকেলে আশ্রম প্রাঙ্গনে কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিঞা তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ শতাধিক দরিদ্রদের মাঝে কাপড় বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা খাতুন রেখা, জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গির হোসেন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ্ মোহাম্মদ কাইউম প্রমুখ। আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক রনঞ্জয় কৃষ্ণ দত্ত জানান-বিশ্ব চরাচরের দুঃখ বিমোচন, অধর্মের গ্লানি থেকে রক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপণার্থে বিশ্ব শান্তি কামনায় ৫ দিন ব্যাপী এ উৎসবে ২৪ প্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব উপলক্ষে ইতোমধ্যে আশ্রম প্রাঙ্গনে বিশাল এলাকা জুড়ে বসেছে রাস মেলা। নাগরদোলাসহ রকমারি জিনিসের পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা। পাহাড়ী কাঠের নকশায় গড়া আকর্ষনীয় ফার্নিচারসহ দূর দূরান্ত থেকে দোকানীরা এসেছে এই মেলায়। শীতের গরম কাপড়, শিশুদের বিনোদনেরও অনেক খেলনা সামগ্রীতে জমে উঠেছে এ আনন্দমেলা। এছাড়া অন্যান্য কর্মসূচি মধ্যে রয়েছে মংগল আরতি, শ্রীমদ্ভাগবদ গীতা ও গুরুগীতা পাঠ, বস্ত্র বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, সরকারি হাসপাতালে দুঃস্থ রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণ, সান্ধ্যকালীন প্রার্থনা, ধর্ম সভা ও গীতি আলেখ্য ইত্যাদি। ১৭ নভেম্বর সমাপনী দিনে গুরুপূজা শেষে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্যে দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। তিনি আরও জানান, এ আশ্রমের সেবামূলক অনেক কার্যক্রম রয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, দাতব্য চিকিৎসালয়ের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাদান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দারা বিনামূল্যে বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা, সুরেন্দ্রনাথ দে স্মৃতি পাঠাগার পরিচালনা ও দৈনিক দরিদ্র নারায়ন সেবা অন্যতম। কাউখালীর কেন্দ্রীয় আশ্রমের এ উৎসব এখন ঐতিহ্যের উৎসব হিসেবে টিকে আছে।