Current Bangladesh Time
সোমবার নভেম্বর ২, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিলুপ্তপ্রায় দৃষ্টিনন্দন সেই বাবুই পাখির বাসা 
Saturday May 4, 2019 , 7:29 pm
Print this E-mail this

দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিলুপ্তপ্রায় দৃষ্টিনন্দন সেই বাবুই পাখির বাসা


মোঃ আর. এ শুভ : বরিশাল সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলে প্রকৃতির বয়নশিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের কারিগর নামে সমাধিক পরিচিত বাবুই পাখির বাসা এখন আর দেখা যায় না। প্রকৃতি থেকে এ স্থপতি এখন বিলুপ্ত প্রায়। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ে এগূলোও দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম্য জীবন থেকে, শহুরে তো কথাই নেই। আমরা হারিয়ে ফেলছি বাবুই পাখি ও তার তৈরি দৃষ্টিনন্দন সেই ছোট্ট বাসা এবং বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য। পূর্বে লক্ষ্য করা যেত শহুরে কিংবা গ্রামে গাছের উচ্চস্থানে অট্রালিকা গড়ে অন্যান্য পশু-পাখি থেকে ভিন্নভাবে ঝড়, বন্যা উপেক্ষা করেও তাদের বানানো বাসায় জীবন যাপন করতে আর কিচিরমিচির শব্দে যেন পুরো অট্রালিকা পাড়া মুখরিত হত। পুর্বে প্রকৃতির এ স্থপতির কদরও জানতো মানুষ। বাবুই পাখি বাসা বাধলে ওই বাসা যেন বিনস্ট না হয় তার দায়িত্বও নিত। কিন্ত সভ্যতা ও যুগের সাথে সমাজ থেকে এগুলো তুচ্ছ প্রায়। সমাজ জীবনে সকলেই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যস্ত। বন্য প্রানী পশু-পাখির কদর এখন সমাজে  মুল্যহীন। আধুনিকতার পিছনে ছুটতে ছুটতে সমাজ আধুনিক হয়েছে ঠিকই তবে ভুলে গেছে প্রকৃতির প্রাচীন নৈসর্গিক দৃশ্য। এগুলো সংরক্ষনতো দূরে থাক সমাজ এখন এগুলো বিনস্ট করছে।পুর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সারি সারি উঁচু তালগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা যেত। এখন তা আর সচরাচর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই দৃষ্টি ভোলানো পাখিটিকেও তার নিজের তৈরি বাসা যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তুলত, তা আজ আমরা হারাতে বসেছি। কবি রজনীকান্ত সেনের অমর কবিতাটি ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে’-এখন এ দেশে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তবে এখন এগুলো শিক্ষার্থীদের মুখস্ত করানো হয় বটে এদের মর্ম বুঝানো হয় খুবই নগন্য বা এখন আর সেই দৃশ্য উপভোগ থেকে বঞ্ছিত হয় শিশু শিক্ষার্থীরা। ফলে আধুনিক যুগে প্রাচীন বা প্রকৃতির স্থাপতির সম্পর্কে নিরক্ষরই থেকে যায়। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের কবিতা পড়েই এখনকার শিক্ষার্থীরা বাবুই পাখির শিল্পনিপুণতার কথা জানতে পারে। শিক্ষার্থীদের আর চোখে পড়ে না বাবুই পাখি ও তার তৈরি দৃষ্টিনন্দন সেই ছোট্ট বাসা এবং বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য। খড়, তালপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে বাসা বাঁধে। সেই বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা পড়ে যেত না। বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসাটি শিল্পের এক অনন্য সৃষ্টি যা টেনেও ছেঁড়া সম্ভব নয়। বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য নানা ভাবে ভাব-ভালোবাসা নিবেদন করে এরা। বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হলে কাঙ্ক্ষিত স্ত্রী বাবুইকে সে বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলে কেবল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকি কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুই পাখির সময় লাগে চার দিন। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই মনের আনন্দে শিল্পসম্মত ও নিপুণভাবে বিরামহীনভাবে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। প্রেমিক বাবুই যত প্রেমই দেখাক না কেন, প্রেমিকা ডিম দেয়ার সাথে সাথেই প্রেমিক বাবুই আবার খুঁজতে থাকে অন্য সঙ্গী। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। ক্ষেতের ধান পাকার সময় হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পরপরই বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য স্ত্রী বাবুই ক্ষেত থেকে দুধ ধান সংগ্রহ করে। বর্তমানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির এক অপরূপে সৃষ্টি-বাবুই পাখি। প্রকৃতির বয়নশিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের কারিগর নামে সমধিক পরিচিত বাবুই পাখি ও তার অপরূপ শিল্পসম্মত বাসা এখন আর চোখে পড়ে না। বাবুই পাখি নিপুণ কারিগর। এ পাখি অত্যন্ত সৌন্দর্য সচেতন। এদের রক্ষার্থে পাখি প্রিয়রা বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।




Archives

Image
নৌকা বাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে পুরো উজিরপুর
Image
বরিশাল বোর্ডের ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
Image
বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ
Image
পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সর্বনিম্ন বরিশাল বোর্ডে
Image
ফের বেদখল বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকের পাড় : সিটি প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা