মোঃ আনিছুর রহমান মিলন : আসন্ন বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবারই প্রথম প্রার্থিতা ঘোষনা করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি এ্যাডঃ মাহামুদ হোসেন মাখন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অবিনাশী আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে রাজনীতির অঙ্গনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে এস এস সি পাশ করেন। তিনি বানারীপাড়া থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে ১৯৮০ সালে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন এবং বানারীপাড়া ছাত্রলীগকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেন। এ্যাডঃ মাহামুদ হোসেন মাখনের যোগ্যতা বিচার করে তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রায়াতঃ অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জাকির তাকে ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি বানারীপাড়া থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে পুরুস্কৃত করেন। তিনি রাজনীতির মাঠে যেমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, ঠিক তেমনি পড়াশুনাকে তেমনি প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মাস্টার্স এবং এল এল বি শেষ করার পর ১৯৮৯ সালে এ্যাডভোকেট সনদ অর্জন করেন। তিনি ১৯৯০ সালে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট্য আহ্বায়ক কমিটি করে। এ্যাডঃ মাহামুদ হোসেন মাখন সেই কমিটিরও সদস্য ছিলেন। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন সেই ছাত্র জীবন থেকেই। যখন স্বৈরচারী সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে মামলা হামলা নির্যাতন চালিয়েছিল, তখন বানারীপাড়ায় মুজিব আদর্শ বাঁচিয়ে রাখতে সেই সময় মাখনসহ তখনকার আরো কয়েকজন নেতা মিলে নবীন সংঘ নামে একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই ক্লাব থেকেই তারা নিরবে মুজিব আদর্শের রাজনীতি করে যায়। এছাড়াও সে সময় তারা বানারীপাড়া উজ্জিবন শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র নামে একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে অসহায় পরিবারের শিশুদের ফ্রি চিকিৎসা এবং ঔষধ প্রদান করতেন। এভাবে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপনের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বানারীপাড়া আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারী হিসেবে সকলের কাছে একজন প্রিয় মূখ, যাকে বানারীপাড়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা ওস্তাদ বলে জানে। এ্যাডঃ মাহামুদ হোসেন মাখন ৪৫/৪৬ বছরের এই বর্নাঢ্য রাজনীতিতে কখনো চাওয়া পাওয়ার হিসেব না করেই মনে প্রাণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ বুকে ধারণ ও লালন করে রাজনীতি করে আসেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় এবারই তিনি প্রথম কোনকিছুর জন্য দলের কাছে দাবী তুলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এ্যাডঃ মাহামুদ হোসেন মাখন রাজনীতি ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন যেমন বানারীপাড়া হাই কেয়ার (বধিরদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য), বানারীপাড়া এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। তিনি বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেজ ও বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনিষ্টিটিউশন (পাইলট) এর বিভিন্ন মেয়াদে সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে দেখা যায় এবারের বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাচনে এ্যাডঃ মাহামুদ হোসেন মাখন একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।