প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, গ্রেফতার ২
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রেসক্লাব কার্যালয় থেকে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক হোটেল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে পুলিশের অভিযানে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবরের জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ত্রিনদী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় সূত্র জানায়, হাজীগঞ্জ বাজারের মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোটেল মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে তারা সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে হোটেল ভবনে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল ও এর মালিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই হোটেল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের পর উপজেলা প্রশাসন হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি পুনরায় চালু রাখা হয়। ঘটনার সময় সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাংবাদিক মহলে ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আহত সাংবাদিককে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন, বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান জানান, ‘এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।’ এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।