Current Bangladesh Time
রবিবার মে ৩১, ২০২৬ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » ১০০ বছরের মধ্যে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় বরিশাল নগরী! 
Friday May 29, 2026 , 6:37 pm
Print this E-mail this

প্রতি বছর এক দশমিক ৬৬ মিলিমিটার করে নিচে নামছে মাটি

১০০ বছরের মধ্যে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় বরিশাল নগরী!


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : প্রতি বছর গড়ে এক দশমিক ৬৬ মিলিমিটার করে নিচে নামছে বরিশাল নগরীর মাটির স্তর। এই নীরব ধস যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান হয়ে যাবে বরিশাল। তখন সামান্য জোয়ারেও তলিয়ে যেতে পারে এই নগরী। জার্মানির সহায়তায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর জিওসাইন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেসের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। স্যাটেলাইট ইমেজেও মাটির স্তর নেমে যাওয়ায় ভবন হেলে পড়ার প্রমাণ মেলে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর বরিশাল নগরী ও সংলগ্ন এলাকার ভূপ্রাকৃতিক উপাদান সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় গভীর তলদেশ থেকে সংগৃহীত ভূগর্ভস্থ উপাদানের পরীক্ষা, স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ এবং ভূ-উপরিভাগের স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়। বাংলাদেশের নগর এলাকায় জার্মান উন্নয়ন সংস্থার সম্ভাব্য সহযোগিতার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কাজটি শুরু হলেও এর ফলাফল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দিয়েছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। গবেষণার ফলাফল সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ না হলেও বিষয়টি বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালে সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে বিষয়টি। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে স্যাটেলাইট ইমেজে। বৌদ্ধপাড়া ও বিএম কলেজ এলাকার কয়েকটি ভবনে উল্লম্ব বিচ্যুতি, অর্থাৎ হেলে পড়ার চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে গিয়ে প্রমাণ মেলে, নবনির্মিত একটি বহুতল ভবন কয়েক মিলিমিটার সামনের দিকে হেলে গেছে। পরে গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া যায়, ভূগর্ভস্থ মাটির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বটতলা ও করিম কুটির এলাকাতেও ভবন হেলে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ছয় বছরের উপাত্তে দেখা যায়, মাটি দেবে যাওয়ার গড় পরিমাণ বছরে এক দশমিক ৬৬ মিলিমিটার হলেও বছরভেদে তা কমবেশি হয়। সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড পাওয়া গেছে এক বছরে ২৪ দশমিক ১৭ মিলিমিটার, যা প্রায় এক ইঞ্চি। একইসঙ্গে ভূমি গঠনেরও কিছু প্রমাণ মিলেছে, বছরে গড়ে ৫ দশমিক ৬৩ মিলিমিটার। তবে এই ভূমি গঠন প্রাকৃতিক নয়, মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে নিচু এলাকা ভরাট করে তৈরি করছে। গবেষণা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এতে আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মী মুরাদ আহম্মেদ বলেন, ‘গবেষণায় মাটি দেবে যাওয়ার যে গড় পরিমাণ বলা হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও সময়ের হিসাবে এটা ভয়ংকর। এই পরিমাণকে ৫০ থেকে ১০০ দিয়ে গুণ করলেই বোঝা যায় ৫০ থেকে ১০০ বছর পর কী হবে। এভাবে পতন অব্যাহত থাকলে একসময় সমুদ্রপৃষ্ঠ আর নগরীর ভূ-উপরিতল চলে আসবে সমান পর্যায়ে। তখন দেখা যাবে যে, সামান্য উঁচু জোয়ারেও তলিয়ে যাচ্ছে বরিশাল। জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্লাবন হলে তো টিকবে না কিছুই।’ গবেষণা-সংশ্লিষ্ট ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত দুটি কারণে নামছে মাটির স্তর। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির বেপরোয়া উত্তোলন। উঁচু ভবন নির্মাণে মাটির ওপর চাপ বাড়ছে, পাশাপাশি বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভেঙে পড়ছে ভূগর্ভের স্থিতিস্থাপকতা। পানির স্তরে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, আর ওপরের মাটি সেই শূন্যতা পূরণ করতে বসে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘একটা সময়ে এখানে মাটির ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট গভীরে গেলেই মিলত নিরাপদ সুপেয় পানি। বর্তমানে তা পেতে টিউবওয়েলের পাইপ স্থানভেদে এক হাজার থেকে ১১০০ ফুট পর্যন্ত গভীরে নিতে হচ্ছে।’ সংকট শুধু নগরীতে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকালে উপরিভাগের ৫ থেকে ৭ ফিট নিচে গেলেই মেলে পানির স্তর। তবে সমস্যা হয় গ্রীষ্মে। তখন ৩০ থেকে ৪০ ফিট নিচেও পানির স্তর পাওয়া যায় না। ৮ থেকে ১০ বছর আগে গ্রীষ্ম মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ ফুট নিচে পানির স্তরের অস্তিত্ব পেতাম। কিন্তু এখন তা নেমে গেছে ৩০ থেকে ৪০ ফুটে। বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে সব মৌসুমেই সহজে পাওয়া যেত টিউবওয়েলের পানি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চৈত্র-বৈশাখে দেখা যাচ্ছে পানির হাহাকার। বরিশাল নগরী-সংলগ্ন রায়পাশা কড়াপুর, বাবুগঞ্জ উপজেলার পাংশাসহ বহু এলাকায় দেখা দিচ্ছে এই সংকট। গ্রীষ্ম এলেই ওইসব এলাকার মানুষ আর চাপকলে পানি পায় না।’




Archives

Image
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ
Image
বরিশালে ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের পর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নগরীতে ছাত্রলীগের মিছিল
Image
বিসিসির ভাল্ব অপারেটর আর নেই : সিটি প্রশাসকের শোক
Image
হাঁচির সময় মুসলিমরা কেন “আলহামদুলিল্লাহ” বলে?
Image
ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্পের বড় ঘোষণা