প্রচ্ছদ » স্লাইডার নিউজ » সব আমলেই ক্ষমতাবান স্বাচিব নেতা বরিশালের ডাঃ মানবেন্দ্র সরকার
Thursday April 9, 2026 , 2:17 pm
চরম উত্তেজনা কর্মচারীদের মধ্যে, তত্ত্বাবধায়কের দ্রুত অপসারণ দাবী তাদের
সব আমলেই ক্ষমতাবান স্বাচিব নেতা বরিশালের ডাঃ মানবেন্দ্র সরকার
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : সব আমলেই ক্ষমতাবান স্বাচিব নেতা বরিশালের ডাঃ মানবেন্দ্র সরকার। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সবার সাথে সুসম্পর্ক রেখে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় বহাল তবিয়তে এখনও হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক পদটি দখল করে রেখেছেন। তার দুর্নীতির কারণে নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতাল এখন রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের লোকজন ও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা লুট করছেন। অথচ কর্মচারীদের বেতনের সময় এলে বলা হচ্ছে ‘টাকা নেই’। দুর্নীতিবাজদের মধ্যে সবার আগে নাম আসে হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মানবেন্দ্র সরকারের। বিধি অনুযায়ী যেখানে তার এই হাসপাতালে চাকরি করারই কথা না, সেখানে তিনি তত্ত্বাবধায়কের চেয়ারে বসে আছেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, খোকন সেরনিয়াবাত এমনকি শাজাহান ওমর পর্যন্ত তার হাত রয়েছে। ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করেই তিনি বিএনপি নেতাদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে পূর্বের ন্যায় হাসপাতালে অনিয়ম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালের কার্যকরি কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তাদের বয়সসীমা ৬২ এবং কর্মচারীদের বয়সসীমা ৬৫ বছর। কিন্তু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মানবেন্দ্র সরকারের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর! সে হিসাবে আরো ৯ বছর আগে তার এই হাসপাতাল ত্যাগ করার কথা। কিন্তু তিনি কোনভাবেই এই হাসপাতাল ছাড়তে নারাজ। বয়সের কারণে যেন তাকে হাসপাতাল ছাড়তে না হয়, সেজন্য তিনি সাবেক সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিবায়াত ও ঝালকাঠির তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমরের সুপারিশে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। এখানে উল্লেখ্য, এই হাসপাতালে তার চাকরি হয়েছিলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্’র সুপারিশে। ২০২৩ সালে ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেই অব্যহতি নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর খোকন সেরনিবায়াত ও এমপি শাহজাহান ওমরের সুপারিশ নিয়ে আবার স্ব-পদে বহাল হন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও সুপারিশ আনেন তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। ডা: মানবেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালীপনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান। এর আগেও তার কথা মতো না চলায় বেশ কয়েকজনকে তিনি বিনা নোটিশে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর ভোলপাল্টে তিনি এখন বিএনপি নেতা। এর আগে স্বাচিপ নেতা পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো ডাঃ মানবেন্দ্র সরকার এখন বিএনপির স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে ছোট বড় সব নেতাদের বাসায় বাসায় যাচ্ছেন। তত্ত্বাবাধয়ক পদটি ধরে রাখার জন্য চিকিৎসকদের মানসম্মান ইতিমধ্যেই তিনি বিসর্জন দিয়েছেন বলে ডায়াবেটিক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার দুর্ব্যবহারের কারণে অতিষ্ট হয়ে উঠলেও কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায় না। নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ট সহযোগি হিসেবে প্রচার করে তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি কোন ধরণের অভিযোগ ছাড়াই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আনিস নামের এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। তার দোষ ছিলো-আনিস তাকে আসা-যাওয়ার পথে সালাম দিতো না। এ ঘটনায় হাসপাতালে চরম উত্তেজনা তৈরী হয়েছে কর্মচারীদের মধ্যে। ফুঁসে উঠেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মানবেন্দ্র সরকারের দ্রুত অপসারণ দাবী করেছেন।