|
স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শিরীন’ই হচ্ছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী!
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর নিয়োগপ্রাপ্ত দলীয় প্রশাসকদেরকেই আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করতে পারেন বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে অর্পন করা হয়েছে মাঠ গোছানোর দায়িত্ব। সম্প্রতি ঢাকা সহ ১১ সিটি কর্পোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার। বড় কোনো ব্যতয় না হলে কিংবা দুর্নীত-বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে না পড়লে এসব প্রশাসকরাই হতে পারেন দলের মেয়র প্রার্থী। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া। এর আগে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে হবে, জাতীয় সংসদে ফয়সালা হবে সেই সিদ্ধান্তের। তবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় এক থেকে দেড় বছরের আগে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমনটাই জানিয়েছেন সরকারের একাধিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচনী প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করতে চায় সরকার। সেক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ হবে সরকারের জন্য টেষ্টকেস। এছাড়াও বরিশাল সহ অনান্য কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসকরাই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে থাকছে বলে নিশ্চিত করেছে সুত্র। এ সুত্রের দাবী,বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনকে। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার একমাসের মাথায় অনেকগুলো কর্মসম্পাদন করেছেন। এছাড়াও তিনি বরিশাল নগরীকে ঢেলে সাজাতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে বড় কোন ভুল চোখে না পড়লে শিরিনই থাকছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দুই সমীকরণ কাজ করতে পারে যার একটি হলো নির্বাচনের আগে প্রশাসক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অন্যটি হলো বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার সুবাদে দলীয় গ্রুপিং বন্ধ করতে তাকে মনোনয়ন দেয়া।কারণ এখানে প্রায় ৫/৬ জন নেতা মেয়র পদে লড়তে চাইছে, তারা হলেন-জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চাঁন, নগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, ১নং যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরীন, সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির ও সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজন। এদের মধ্যে রাজন দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলে প্রতিপক্ষের দ্বারা জখমের শিকার হয়ে শারিরীক অসুস্থতায় বিদেশে চলে যান।আবার জুলাই অভ্যুথ্থানে হাসিনা সরকারের পতন হলে দেশে ফিরে আসেন। অন্যদের মধ্যে প্রত্যেকেই বিগত আন্দোলন সংগ্রাম এ মাঠে কাজ করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সুত্রের দাবী, বিলকিস জাহান শিরীনকে সাংগঠনিক হিসেবে পছন্দ করে চেয়ারম্যান। প্রশাসক পদে আসীন হয়ে শিরীন গত দেড়মাসে তার যথেষ্ট কর্মস্পৃহা দেখিয়েছেন। এ বিষয়টি চেয়ারম্যানের নজরেও রয়েছে। তাই এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শিরিনের অনুকূলে রয়েছে। আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বরিশাল সিটির প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ‘মেয়র নির্বাচন করার জন্যই তো এসেছি এখানে (প্রশাসক)। অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা ছাড়া আমি দীর্ঘদিন বরিশালের রাজনীতিতে যুক্ত। আশা করছি, নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করতে পারব।’ ‘তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যানের ওপর, তিনি আমাকে মনোনয়ন দিলে করব নির্বাচন। এখন স্বাভাবিকভাবেই কাজ-কর্ম করছি, যাতে জনগণ বুঝতে পারে যে—আমাকে দায়িত্ব দিলে তাদের জন্য করতে পারব কাজ-কর্ম। এটা পরীক্ষার আগে একটি পরীক্ষা হয়ে যাবে।’ এ প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকারের যে সমস্ত কমিটমেন্ট-দায়িত্ব আছে, সেগুলো তো সরকারকে পালন করতেই হবে। আমাদের দলীয় সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। জনগণের প্রতি আমাদের যে কমিটমেন্ট-ডেডিকেশন থাকবে, অন্য কারো তো সেটি থাকবে না। সেটি আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি এবং ইতোমধ্যে অনেকাংশে করেছিও। আমি বিশ্বাস করি, শতভাগ না হলেও জনগন পেতে শুরু করেছে নাগরিক সুবিধা। জনগণের যেসব চাওয়া-পাওয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেষ্টা করব আমরা সেগুলো ফুলফিল করার।’
Post Views: ০
|
|