|
স্বেচ্ছাচারিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ
বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসারের বিরুদ্ধে ডিসির কাছে অভিযোগ
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. তানভীর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন সাংস্কৃতিক কর্মী কানিজ জোহরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মো. মামুন খন্দকারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে কানিজ জোহরা বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঘোষিত বরিশালে নজরুল বর্ষ উদযাপন কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে কালচারাল অফিসার তানভীর রহমান তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) বরিশাল দক্ষিণের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর ও বরিশাল মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক মীর আদনান আহমেদ তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের পারিশ্রমিক বা যেকোন বিষয় জানতে চাইলে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কানিজ জোহরার অভিযোগ, জাসাসের ওই নেতাদের শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অসদাচরণ, আধিপত্য বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কানিজ জোহরা বলেন, “জাসাস শিল্পকলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করবে, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নামে কোনো সংগঠনের নেতারা পুরো প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন না। শিল্পকলা একাডেমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে সরকার নিয়োজিত কর্মকর্তা রয়েছেন। কোনো বিষয়ে সেই কর্মকর্তার পরিবর্তে যদি কোনো সংগঠনের নেতাদের কাছে যেতে বলা হয়, তাহলে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।” তিনি আরও বলেন, “শিল্পকলা একাডেমি দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য। এখানে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির প্রভাবে নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষক, বিচারক কিংবা শিল্পী মনোনীত করা উচিত নয়।” অভিযোগের বিষয়ে কালচারাল অফিসার মো. তানভীর রহমান বলেন, “জাসাসের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা রয়েছে। আমি সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ করছি।” তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি। বরিশাল দক্ষিণ জাসাসের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর ও মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক মীর আদনান আহমেদ তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মো. মামুন খন্দকার বলেন, “একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।” অভিযুক্ত জাসাস নেতাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে সরকার নিযুক্ত কর্মকর্তা রয়েছে। যেসকল জাসাস নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা কালচারাল অফিসারকে সহযোগিতা করতে পারে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটা আইনত অপরাধ।”
Post Views: ০
|
|