বরিশালে ‘নির্যাতিত’ কিশোরীর হাসপাতালে মৃত্যু, প্রেমিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালের গৌরনদীতে নুসরাত জাহান ঝুমুর (১৬) নামের এক কিশোরীকে মাদক সেবন করিয়ে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পর নির্যাতন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর কথিত প্রেমিককে অভিযুক্ত করছেন স্বজনরা। টানা পাঁচদিন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অজ্ঞাত পরিচয়ের রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার (জুন ১) রাতে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ঝুমুর উপজেলার কান্ডপাশা গ্রামের আব্দুর রহমান খানের মেয়ে। সে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত প্রেমিক হৃদয় গাজী এলাকা থেকে পালিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঝুমুরের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, নলচিড়া খানাবাড়ি এলাকার মাহবুব গাজীর ছেলে মাদকসেবী ও বিক্রেতা হৃদয় গাজীর সঙ্গে ঝুমুরের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত বুধবার (মে ২৯) কৌশলে তাঁকে ডেকে নিয়ে যায় হৃদয়। পরে হৃদয় গাজী তাঁর খালার বাড়ি মাহিলাড়া এলাকায় নিয়ে ঝুমুরকে মাদক সেবন করিয়ে নির্যাতন করে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে মহাসড়কের পাশে ফেলে সে পালিয়ে যায়। ঝুমুরের বোন নুপুর আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদয় গাজী আমার বোনকে অকথ্য নির্যাতন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়েছে। আমরা এই পাঁচ দিন তাঁকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেছি। কোথাও না পেয়ে রোববার রাতে গৌরনদী থানা পুলিশকে অবগত করে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের গ্রামের ফেসবুক ব্যবহারকারী এক যুবকের মাধ্যমে জানতে পারি, ঝুমুর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মরদেহ কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরে সোমবার বিকেলে মরদেহ নিয়ে এসেছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।