প্রচ্ছদ » স্লাইডার নিউজ » বরিশালে নির্যাতন করে ১৭ বছরের কিশোরীকে বৃদ্ধের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে!
Tuesday February 24, 2026 , 5:10 pm
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে এবং পরবর্তী এই নির্যাতন নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ
বরিশালে নির্যাতন করে ১৭ বছরের কিশোরীকে বৃদ্ধের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে!
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন আন্ধারমানিক ইউনিয়নে এক কিশোরীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর খোদ জন্মদাত্রী মা হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে, যিনি অতিরিক্ত লোভের বশবর্তী হয়ে ১৭ বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা বেগমকে, ৪৫ বছর বয়সী এক প্রবাসীর সাথে বিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের প্রবাসী নুরুজ্জামানের স্ত্রী হাসিনা বেগম তার মেয়ে আকলিমার অমতে এই বিয়ের আয়োজন করেন। পাত্র তসলিম উদ্দিন (৪৫) একজন প্রবাসী, যার বয়স কনের বয়সের দ্বিগুণেরও বেশি। আকলিমা এই অসম বিয়েতে বারবার অস্বীকৃতি জানালেও তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরী আকলিমা বলেন, বিয়ের দুই মাস পার হলেও তিনি স্বামীকে মেনে নেননি এবং শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি দেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মা এবং স্বামী তসলিম উদ্দিন অত্যন্ত জঘন্য এক কৌশল অবলম্বন করেন।১৯ফেব্রুয়ারি রাতে আকলিমাকে কৌশলে ঘুমের ঔষধ এবং যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করানো হয়। অচেতন অবস্থায় বা শারীরিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তার সাথে জোরপূর্বক মিলিত হওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। ভুক্তভোগী আকলিমা আরো বলেন , আমার মা টাকার লোভে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন। আমি বারবার না করা সত্ত্বেও আমাকে মারধর করে এই বয়স্ক লোকটার সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা আমাকে ঔষধ খাইয়ে আমার অনিচ্ছায় সবকিছু করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অমানবিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত মা ও প্রবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে (বাল্যবিবাহ) এবং পরবর্তী এই নির্যাতন নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া কোনো নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকর্মে বাধ্য করা বা ঔষধ খাইয়ে নিগ্রহ করা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল হাসান জানান, আমাকে এখনো কেউ এই ঘটনা জানায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।