|
ভিক্ষার টাকা জমিয়ে কেনা নতুন পোশাক পরে দু’জনে অপক্ষোয় ছিলেন দুপুরের খাবারের
বরিশালের মেয়ে হালিমা ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী আকাশের ঈদ পালন
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : সকালে খাবার হোটেল থেকে পরোটা কিনে খেয়ে ঈদের দিনের যাত্রা শুরু, এরপর স্ত্রী হালিমাকে বরিশাল নদীবন্দরে রেখে নগরের গোরস্থান রোড মসজিদে ভিক্ষার জন্য যান চাঁদপুরের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী আকাশ। ফিরে এসে ভিক্ষার টাকা জমিয়ে কেনা নতুন পোশাক পরে দু’জনে অপক্ষোয় ছিলেন দুপুরের খাবারের। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শুক্রবার (১৪ মে) নদীবন্দরে মুরগির রোস্ট ও পোলাওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা খেয়ে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাটের মেয়ে হালিমা ও তার স্বামী আকাশের হাত ধরে হাসিমাখা মুখে চোখে চশমা হাঁকিয়ে পায়ে হেঁটে গোটা বরিশাল নগরী ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। এর আগে গোটা দুপুর জুড়েই নতুন পোশাকে এই দম্পতির ঈদ উদযাপনের আনন্দ যেন বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে গোটা নদীবন্দর এলাকায়। শারীরিক প্রতিবন্ধী আকাশ স্বাভাবিকভাবে কথা না বলতে পারলেও আজকের এই ঈদের দিনে নতুন পোশাকে তার আনন্দের যেন কোনো কমতি ছিলো না। স্ত্রী হালিমা বলেন, ভিক্ষার টাহা জোমাইয়া দুইজন দুইজনের জামা কিইন্যা দিছি। আকাশ মোরে ঈদে থ্রি-পিস কিইন্যা দিছে, আর মুই পাঞ্জাবি কিইন্যা দিছি আকাশেরে। যা গায় দিয়া ঘুরতে বাইর হইছি। আজকে পায়ে হাইট্টাই পুরা শহর ঘুরমু। তিনি বলেন, আকাশের বাবা-মা কেউ নেই, আর তার (হালিমার) মা থেকেও নেই। একসময় তিনি বরিশাল নদীবন্দরে ডিম বিক্রির কাজ করতেন। তিন বছর আগে আকাশ তার প্রেমে পড়ে এবং তার কাছাকাছি ঘুরতেন। এরপর তাকে (হালিমাকে) যে ভালোবাসে তার প্রমাণ দিতে নাকি একবার আকাশ অটোরিকশার চাকার নিচেও মাথা দিয়েছিলেন। এরপর ঘাটের লোকজনই তাদের বিয়ে দেয়। বিয়ের পর হালিমা কিছু না করলেও আকাশ ভিক্ষা করে। যা দিয়ে তাদের দু’জনের পেট চলে যায়। হালিমা বলেন, সত্য কইতে আকাশ মোরে অনেক ভালো পায়। মোগো কোনো বাড়িঘর নাই, হ্যার লইগ্যা লঞ্চঘাডেই মোরা থাকি। রোজায় সাংবাদিকরা প্রেত্যেক রাইতে খাওন দেছে, যা খাইয়্যা দিন কাডাইছি। হ্যার লইগ্যা রোজায় কিছু রান্না না হরলেও এমনে দিনের বেলা এহানেই কোনো জায়গায় খাওন রান্দি। আবার টাহা থাকলে কোনো দিনে হোটেল দিয়া কিইন্যাও খাই, কোনো দিন কেই খাওন দেয়। তিনি বলেন, বিয়ার তিন বছরে দুইড্যা বাচ্চা হইছিলো কিন্তু দুইডাই জন্মের কয়দিন পর ঠাণ্ডা লাইগ্যা মইরা গ্যাছে। কিন্তু আকাশ মোরে এত ভালো পায় যে, ঝগড়াঝাডি হইলেও মোরে ছাইড়্যা যায় না। মুই ও অরে অনেক ভালো পাই, আকাশও মোরে অনেক ভালো পায়।
Post Views: ০
|
|