মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : পিরোজপুরে কঁচা নদীতে নির্মাণাধীন অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু পার হয়েছে বরযাত্রীর গাড়ির বহর। জুন মাসের শেষ দিকে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। এর পরে সেতুটি সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যেই কঁচা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি পার হলো বরযাত্রীর গাড়ির বহর।বৃহস্পতিবার দুপুরে ১টি বাস ও ২টি ব্যক্তিগত গাড়ি ৯৯৮ মিটার দীর্ঘ অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু পার হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িগুলো কঁচা নদীর কাউখালীর বেকুটিয়া প্রান্ত থেকে পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা প্রান্তে পৌঁছায়। সেখানে ব্যারিকেডের কাছে গাড়িগুলো থামার পর ২-৩ জন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কয়েকজন যুবক ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে গাড়িগুলো পার হয়। সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাসুদ মাহমুদ সুমন জানান, চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এখনো সেতুটি হস্তান্তর করেনি। তাই বিষয়টি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করবে যে উদ্বোধনের আগে কেউ সেতু ব্যবহার করতে পারে কি না। আগামী ২০ জুনের মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। এরপর উদ্বোধন করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে সেতু ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহামুদ বলেন, সেতুটি চীন সরকার এখনো সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি। তবে বিষয়টি শুনে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন যেন সেতুতে না ওঠে।উল্লেখ্য, বরিশাল-খুলনা পথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির জন্য পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘের ও ১৩ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ৮৮৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীন সরকার দিয়েছে, বাকি টাকা ব্যয় করছে বাংলাদেশ সরকার।