|
দর্শনার্থী সংকটে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর, রয়েছে প্রচারণার অভাব
এম সাইফুল : জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রত্নত্বাতিক নিদর্শন সম্বলিত বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরটি। দর্শনার্থী সংকট থাকার ফলে অলস সময় পাড় করছেন জাদুঘরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির অভাবেই দর্শনার্থী সংকটে পড়েছে ঐতিহাসিক নিদর্শনের ভান্ডার বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরটি। বর্তমানে লোকবলের অভাব পূরণ হলেও দর্শনার্থী খুজে পাওয়া বড়ই দুস্কর। গড়ে প্রতিদিন ৪০/৫০ জন দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসে। প্রচার-প্রচারণার জন্য তেমন কোন সরকারী বরাদ্দ না থাকায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে জাদুঘরের কার্যক্রম। সপ্তাহে ৬দিন খোলা থাকে এ জাদুঘরটি, যার টিকেট মূল্য ধরা হয়েছে ১০ টাকা। এছাড়া বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে উন্মক্ত থাকে জাদুঘরটি। এ জাদুঘরের ৯ টি গ্যালারিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩শ ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা বর্তমান মানুষকে ইতিহাসের জানান দেয়। পুরাতন কালেক্টটর ভবনকে সংস্কার করে ২০১৫ সালের ৮ই জুন উদ্বোধন করা হয় এই বিভাগীয় জাদুঘরটি। কিন্তু বরিশালের ৫০ ভাগ মানুষও জানেন না যে, বরিশাল নগরীতে রয়েছে একটি জাদুঘর। যার ফলে দর্শনার্থীর সংখ্যা খুবই কম। দেশের প্রতি মূল্যবোধ তৈরি ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দেশীয় গান পরিচিতির জন্য রয়েছে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। কিন্তু নেই তেমন দর্শনার্থী। বরিশাল বিভাগের মানুষ দূরে থাক খোদ নগরবাসীদের অনেকেই জানেন না এ জাদুঘর সম্পর্কে। বরিশাল নগর ভবনের (সিটি কর্পোরেশন) অপর পার্শ্বে অবস্থিত এই জাদুঘরটি। দর্শনার্থী না থাকার অন্যতম একটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে আঞ্চলিক কার্যালয়। কেননা বরিশাল বিভাগীয় এ জাদুঘরটি খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী কাস্টেরিও মোঃ শাহিন আলমের সাথে সাক্ষাতকালে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে জনবলের অভাব পূরণ হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমরা এ জাদুঘরটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখছি। সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ১০জন আনছার সদস্য। কিন্তু এত কিছু করেও দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এদিকে নতুন নির্দশন ক্রয়ের জন্য যে পরিমান অর্থ বরাদ্দ দরকার তা আমাদের নেই। তা সত্ত্বেও আমরা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু না কিছু নিদর্শন এ জাদুঘরে যোগ করছি। জাদুঘরের প্রচারের জন্য আমাদের তেমন কোন বরাদ্দ না থাকার কারণে আমরা যথাযথ প্রচারণা করতে পারছি না। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আসার জন্য আহবান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছি, যার ফলে আমরা কিছু সাড়া পাচ্ছি। এছাড়া বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর নামে রয়েছে আমাদের ফেসবুক পেইজ। যেখানে সবসময় এখানকার সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আমরা বরিশাল বিভাগের সকল নাগরকিদের আহবান জানাচ্ছি তারা যেন তাদের কাছে থাকা পুরাতন বিভিন্ন জিনিস যা ঐতিহ্য বহন করে তা জমা দিয়ে যাদুঘরে তারাও যেন অবদান রাখে। আর আমাদের আঞ্চলিক কার্যলয় বরিশাল না থাকার কারণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। আমাদের বরিশালে যদি আঞ্চলিক কার্যালয় দেয়া হয় তাহলে আমাদের বরাদ্দ বাড়বে এবং বরাদ্দ বাড়লে যেটুকো সমস্যা রয়েছে তা থাকবে না বলে জানান এই কর্মকর্তা। তাহলে আরো নতুন নতুন নির্দশন সংগ্রহ করা যাবে এবং দর্শনার্থী আসবে ইতিহাস জানতে। এখানে উল্লেখযোগ্য নির্দশনের মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালীর জোড়া কবরের ছবি ও রহস্য, বৌদ্ধ মূর্তি,থালাবাটি, পুরোনো কেদারকেটলি, তরোয়াল, লোহার দন্ড, তৈজস জিনিসপত্র, কলেরগান বা গ্রাম্যো ফোনসহ রয়েছে রাজাদের আমলে একটি আকর্ষনীয় খাট। এছাড়া রয়েছে নানা গুনীজনের পুরোনো ছবি। রয়েছে বরিশালের দুজন বীরশ্রেষ্ঠের ছবি এবং তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নারীনেত্রী মনোরমা বসু (মাসিমা নামে পরিচিত)। অপরদিকে রয়েছে হিন্দুদের শিবলিঙ্গের মূর্তি, মসলিন সাড়ি ও বরিশালের ম্যাপ সহ নানা পুরোনো নির্দশন।
সূত্র : বরিশাল বাণী
Post Views: ০
|
|