|
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধেকে পুঁজি করে এক ভয়াবহ অস্থিরতা
অকটেন সংকটে বরিশালের ফিলিং স্টেশনগুলো!
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া পেট্রোলের সরবরাহ কম থাকায় দুই লিটারের বেশি মিলছে না। তবে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার (মার্চ ৭) সকালে নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে অকটেন না পেয়ে অনেক যানবাহনের চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। নগরীর নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর, রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ‘অকটেন নেই’ ‘ পেট্রোল নেই’ লেখা বোর্ড। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। পেট্রোল নিতে আসা মোটর সাইকেল চালকরা বলছেন, বিশ্বে যুদ্ধের কারণে তেলের সংকট পরতে পারে, সেই চিন্তা থেকে অনেকে বেশি করে সংগ্রহ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, যদি পরে তেল না পাওয়া যায়, সেই আতঙ্ক থেকে তারা ফিলিং স্টেশনে ছুটে আসছেন। পেট্রোল পাম্পের দায়িত্বে থাকারা জানিয়েছেন, অকটেন শেষ হয়েছে দুইদিন আগে। রোববারের মধ্যে সরবরাহ থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে চালকরা চাহিদার তুলনায় বেশি নেওয়ার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলে দুই লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার করে দেওয়া হচ্ছে পেট্রোল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপকে পুঁজি করে বরিশালের জ্বালানি বাজারে তৈরি করা হয়েছে এক ভয়াবহ অস্থিরতা। যদিও পাম্প মালিকরা যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছেন, কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। সরকারি হিসেবে দেশে এখনো অন্তত ১৫-২০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাহলে বরিশালে কেন হুট করে অকটেন উধাও? অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক পাম্প মালিক ডিপো থেকে তেল নিলেও তা আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকে জমিয়ে রাখছেন। দাম বাড়ার আশায় তারা এই ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি করেছেন যাতে বেশি দামে কালোবাজারে তেল বিক্রি করা যায়। বরিশালের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Post Views: ০
|
|