|
ঘটনায় তিন মাস পার হলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি
বরিশালে আনসার বাহিনীর গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত, আহত মা
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে আনসার বাহিনীর একটি গাড়ির ধাক্কায় ১১ বছর বয়সী এক মেধাবী শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার মায়ের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তিন মাস পার হলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা কোনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি দেখেনি। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রুপাতলী এলাকায় বাংলাদেশ বেতার রেডিও সেন্টার ও র্যাব-৮ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, “ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৬৩৭” নম্বরের আনসার বাহিনীর একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চলাচলের সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (৫৮) নামের এক চালক। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা ১১ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। একই সঙ্গে শিশুটির মা গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেল চালকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রথমে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা দাবি করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কিংবা ন্যায়বিচার পাননি। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থানের আশ্বাস ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তিন মাস সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও, আহত অবস্থায় বরিশালের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আট তলায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে মামলা না তোলার জন্য আনসার বাহিনীর গাড়িচালক সিরাজুল ইসলাম তাকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, শোকাহত অবস্থায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর থেকে অভিযুক্ত চালক তার সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকরা অভিযুক্ত চালক সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট জবাব না দিয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই বিষয়ে আনসার বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, দায়িত্বশীল বাহিনীর গাড়ির বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি, “আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে গেছে, একজন মা আজও কষ্টে আছেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাইনি।”
Post Views: ০
|
|