|
জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এমন স্থাপনা গড়ে তোলা
‘শাহান-আরা পার্ক’ উচ্ছেদ অভিযান : প্রশংসায় ভাসছেন সিটি প্রশাসক
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম চৌমাথা সিএন্ডবি রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ, যানজট ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিতর্কিত ‘শাহান-আরা পার্ক’-এর অবশিষ্ট অংশ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। বুধবার (মে ১৩) সকাল ১১টায় বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে—এমন আশায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই প্রশাসকের এই পদক্ষেপকে “জনস্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন-বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল বারী, সাবেক কাউন্সিলর শাহ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপু, আ ন ম সাইফুল আহসান আজিম ও ইউনূস হোসেন। এছাড়াও মহানগর বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আহমেদ জ্যাকি অনুপম, নওশাদ হোসেন নান্টু, মাজহারুল ইসলাম জাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে রাস্তার মাঝখানে স্থাপিত পার্কটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রতিদিনই সৃষ্টি হতো তীব্র যানজট, বাড়ছিল দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহন ও জরুরি সেবার গাড়িগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নগরবাসীর অভিযোগ ছিল, জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এমন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগর পরিকল্পনার জন্য হুমকিতে পরিণত হয়। বহুবার বিভিন্ন মহল থেকে পার্কটি অপসারণের দাবি উঠলেও এতদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে বিসিসির উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সম্পূর্ণ উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হলে সিএন্ডবি রোড এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হবে, কমবে যানজট এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে পরিচিত স্থাপনাটি অপসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা নগরবাসী। স্থানীয়রা জনস্বার্থে এমন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ায় বিসিসি প্রশাসককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। এদিকে উচ্ছেদ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর জনস্বার্থবিরোধী ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগর পরিকল্পনা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।
Post Views: ০
|
|