মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : আজ ৯ এপ্রিল, বরিশাল নগরীর বিসিসি’র সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালে আজকের এ দিনে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আধুনিক বরিশালের রূপকার সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরন। তিনি না থাকলেও আজও তার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে তাঁরই রেখে যাওয়া স্মৃতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেন এবং মেয়র নির্বাচিত হন শওকত হোসেন হিরন। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই পাল্টে যায় বরিশাল নগরীর হালচিত্র। উন্নয়ন বঞ্চিত বরিশাল সিটিকে আধুনিক রূপে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। তবে ২০১৩ সালের ১৫ জুন বরিশাল সিটি’র তৃতীয় পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছে শওকত হোসেন হিরনকে। পরে অবশ্য ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শওকত হোসেন হিরনকে বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী করেন এবং একই বছরের ৫ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ২২ মার্চ রাতে বরিশাল ক্লাবে বসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে এ্যাপোলো হাসপাতালে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে রাখা হয় হিরনকে। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে ৯ এপ্রিল তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুর পর বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই বছর ১১ এপ্রিল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্তানে মায়ের কবরের পার্শ্বে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এদিকে শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া হিরনের ভক্ত ও অনুসারীরাও আয়োজন করেছে বিশেষ দোয়া মোনাজাতের। শওকত হোসেন হিরন কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর মনিকঠোয়।
বরিশাল মুক্তখবর.কম পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।