Current Bangladesh Time
বুধবার অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বরিশালের লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি! 
Monday February 25, 2019 , 1:38 pm
Print this E-mail this

অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বরিশালের লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি!


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : অযত্ন আর অবহেলায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী লাকুটিয়া জমিদারবাড়িটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বাড়িটির অধিকাংশ স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে। বর্তমানে মূল ভবন এবং কয়েকটি মন্দির জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে। আর জমি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ব্যবহার করছে। সম্প্রতি জমিদারের এক উত্তরাধিকারী বাড়িটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দেন। তিনি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে বাড়িকে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে চিঠি লেখেন অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার এবং লাকুটিয়া জমিদারের আইনি উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায়ের মেয়ে আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি জমিদারবাড়িটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এটিকে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সুরক্ষার দাবি জানান। আলপনা রায়ের চিঠি পাওয়ার পর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়িটির বর্তমান অবস্থা এবং সার্বিক বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা দেয়ার জন্য বরিশাল জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। আলপনা রায় তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, লাকুটিয়া জমিদারবাড়ির ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সম্প্রতি তারা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন, জমিদারবাড়ির মূল ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হতে পারে। বিষয়টি জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বরিশাল জাদুঘর সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাদুঘরের কর্মকর্তারা জমিদারবাড়িটি পরিদর্শন করেন। তারা একটি প্রতিবেদন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, বাড়িটির মূল দোতলা ভবনটি টিকে আছে। এ ছাড়া পাঁচটি মন্দির, তিনটি বড় এবং একটি ছোট পুকুর রয়েছে। লোহার দরজা পেরিয়ে জমিদারবাড়ির মূল প্রবেশপথের বাঁ পাশে শানবাঁধানো পুকুর। বাড়িটি এখন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) তত্ত্বাবধানে আছে। বাঁ পাশে বিএডিসির ট্রাক্টর রাখার ঘর আর ডান পাশে তাদের গোডাউন আর অফিস কক্ষ। পেছনে আছে পাকা উঠান। সেখানে, বীজ শুকানো হয়। বাড়ির কাছেই আমবাগান। বাগানটি গড়ে উঠেছে বিশাল এক দিঘির পাড়ে। একে সবাই রানির দিঘি বলে। খোসালচন্দ্র রায় লিখিত বাকেরগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রূপচন্দ্র রায় ছিলেন এই জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময়ে এই পরিবারের প্রতিপত্তি বাড়ে। ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর তিনি মূল জমিদারবাড়িটি তৈরি করেছিলেন। রূপচন্দ্র রায় খুব প্রজাদরদি জমিদার ছিলেন। লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক তার আমলে তৈরি হয়েছিল। তাঁর দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী ছিলেন। বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহীন আলম বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গ্রহণ করে সুরক্ষার উদ্যোগ নিলে ঐতিহাসিক এই বাড়ি বরিশাল বিভাগের একটি বড় নিদর্শন হবে। বিএডিসির বরিশালের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক শেখ ইকবাল আহমেদ বলেন, বিএডিসি কয়েক বছর ধরে বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য এই এলাকা ব্যবহার করে আসছে। এই বাড়ি একটি বড় ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। কিন্তু তাদের বরাদ্দ না থাকায় দালান ও মন্দির সংরক্ষণের কাজ করতে পারেননি। এই বাড়ি সুরক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হলে তারা যথাসাধ্য সহযোগিতা করবেন।




Archives

Image
বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন
Image
নাজমুল হত্যার বিচার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ
Image
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
Image
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
Image
বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনের সংস্কার ও পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন