|
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের উদ্যোগে
বরিশালে সাহিত্য সম্মেলন ও সম্মাননা প্রদান
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাহিত্য সম্মেলন’২০২৬। এতে কবি, লেখক, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় সম্মেলনস্থল। শেরেবাংলার জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি অবদান এবং বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা ছাড়াও কবিতা পাঠ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বরিশাল বিভাগের শতাধিক কবি, লেখক, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হকসহ লেখক ও গবেষকরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর। সঞ্চালনা করেন কবি পবিত্র মুখোপাধ্যায়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠের আসর। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন কবি নয়ন আহমেদ, কবি শাহীন চৌধুরী, কবি আলী হাফিজ ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কবি মুস্তফা হাবিব। আলোচনা পর্বে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের বর্ণাঢ্য জীবন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তাঁর স্মৃতি ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। এ সময় অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারের রচিত ‘শেষ-ই-বাংলা: জীবন ও কর্ম’ এবং শের-ই-বাংলারকে নিয়ে প্রকাশিত ‘ছোটদের শের-ই-বাংলার’ বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি জামান মনির ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের হাতে ‘শের-ই-বাংলা সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেওয়া। প্রধান অতিথি কবি আবদুল হাই শিকদার সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেন। এ সময় সাংবাদিকতা ও কথাসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা গ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক মো. মামুন-অর-রশিদ। তার রচিত ‘প্রথম প্রেম’, ‘সাজু’, ‘টাকার বন্ধু’ ও ‘সলিল সমাধি’সহ বিভিন্ন ছোটগল্প সাহিত্য পাতা ও বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গল্পগুলো পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আয়োজকরা জানান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বিস্তৃত করা, সৃজনশীল মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাবনার আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মনীষীদের অবদান তুলে ধরাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। শের-ই-বাংলার জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ সম্মেলন বরিশালের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
Post Views: ০
|
|