|
বিভিন্ন প্রকল্পের নথি পর্যালোচনায় কিছু অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
বরিশালে ৬% ‘কমিশন’ নেওয়া এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক জামালকে ঘিরে প্রশ্ন!
আহমেদ বায়েজিদ : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাউদার্ন কান্ট্রি আয়রন ব্রিজ রিকন্সট্রাকশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট (আইবিআরপি)-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন (অলোক)-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের নথি পর্যালোচনায় কিছু অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাক্কলন অনুমোদন, এপিপি, টেন্ডার অনুমোদন, বিল পরিশোধ এবং অর্থ বরাদ্দ বিভিন্ন ধাপে কমিশন ছাড়া ফাইল অগ্রসর হয় না। তাদের ভাষ্য, এসব কমিশন আদায়ের ক্ষেত্রে বরিশাল এলজিইডির এক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। কয়েকজন ঠিকাদার আরও দাবি করেন, ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু কাজেরও প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীরা ঝালকাঠি ও বরগুনার কয়েকটি সেতু প্রকল্পের নথির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও ডিপিপির মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি সরকারি পর্যায়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও (আইবিআরপি)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসাবে ৬টি জেলার দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ জামাল উদ্দিন (অলোক)। এসব জেলাগুলো হলো বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-ভোলা-পটুয়াখালী-বরগুনা। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে এই জেলাগুলোর গ্রামীণ ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ এবং এলজিইডির চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকির মূল দায়িত্বে তিনি রয়েছেন। এছাড়াও তিনি এলজিইডির নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালনের কারনে তিনি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে ৬% কমিশন ছাড়া তিনি কোন কাজ করেন না। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শরিফ মোঃ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি প্রাক্কলন অনুমোদনের সময় ২%, এপিপি সময় ১%, টেন্ডার অনুমোদনের সময় ১%, কাজের বিলের সময় ১% এবং অর্থ বরাদ্দের সময় ১% টাকা না দিলে কোন অর্থ বরাদ্দ মেলে না তার কাছ থেকে। তার কমিশন আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন বরিশাল এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার।বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-ভোলা-পটুয়াখালী-বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছে ঠিকাদাররা কোন বিলের কথা বললে তারা বলেন, প্রকল্প পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন (অলোক) স্যারের সাথে কথা বলেন। গোপন সূত্রে জানাগেছে, প্রকল্প পরিচালক নিজে প্রাক্কলন তৈরী করে সে তার লোকজন’কে উচ্চ কমিশনের মাধ্যমে বিক্রি করেন। শুধু তাই নয় সে যে কোন কাজের সময় বর্ধন করতে হলে তাকে ১টি তে ২৫০০০ টাকা করে দিতে হয়। এছাড়া যে কোন স্কীমের রিকাষ্ট করার সময় তাকে অনেক বড় অংকের টাকা দিতে হয়। তিনি নলছিটি ব্রীজের ২৮নং কাজের জন্য একজনের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে বিক্রি করে তার প্রাক্কলন মূল্য ৬৫.৬৫২ লক্ষ টাকা দিতে হয়। ঝালকাঠি জেলা বাজাপুর উপজেলা বিআরজি ১০ আইডি ৫৪২৮৪৩০১২-(আইডি ৫৪২৮৪৩০১২-১১) ডিপিপিতে কোন আর্থ বরাদ্দ নাই, তিনি ডিপিপির বাহিরে অনুমোদন করেছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে নিয়ম আমান্য করে প্রাক্কলন অনুমোদন করেছেন। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা বিআরজি ৩২ আইডি৫৪২৭৩ ৪১৬৫-২৫ মিটার ব্রিজ ডিপিপিতে না থাকা স্বত্ত্বেও প্রধান প্রকৌশলী নথিতে উল্লেখ করেন প্রাক্কলিত মূল্য ডিপিপি মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করতে বলা থাকলেও মোঃ জামাল উদ্দিন এসবের তোয়াক্কা করেনি, প্রাক্কলন অনুমোদন করেছেন। যে সকল স্কীমের ডিপিপি অন্তর্ভুক্ত নাই তিনি সে সকল স্কীমকে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে ৬% কমিশনের বিনিময়ে। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না।
Post Views: ০
|
|