Current Bangladesh Time
শুক্রবার আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » বরিশালে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ালেন চিকিৎসক! 
Friday August 21, 2026 , 4:31 pm
Print this E-mail this

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দিলেও মিলেনি কোনো সমাধান

বরিশালে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ালেন চিকিৎসক!


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালে হাসপাতালে বমি ও শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসা করাতে আসা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দেওয়া হয়েছে গর্ভপাতের ওষুধ। খাওয়ার পর চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেট ফুলে ওঠাসহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা হয়। এতে অনাগত সন্তান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবার। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নার্সের ভুল বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চিকিৎসক। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দিলেও এখনও মিলেনি কোনো সমাধান। জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বমি এবং শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসার জন্য বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মামুন হোসেন জানান, গাইনি চিকিৎসক ডা. রেহানা ফেরদৌসের পরামর্শে স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. শাহরিয়ার হক সুমন নিয়মিত ভিজিটে এসে স্ত্রীর ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। মামুন বলেন, ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পর স্ত্রী অনুভব করেন তার পেট শক্ত হয়ে আসছে। বিষয়টি চিকিৎসককে অবহিত করলে জানতে পারেন স্ত্রীকে তার গর্ভে নষ্ট হয়ে যাওয়া সন্তান বের করার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন রোগীর স্বামীসহ স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে ভুল চিকিৎসার প্রতিবাদ জানান তারা। পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসক এবং নার্সদের বিচারের দাবি জানান।ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দায়িত্বরত ডাক্তার কৌশলে চিকিৎসার কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এমনকি ভুল চিকিৎসা দেওয়া ডা. শাহরিয়ার হক সুমন হাসপাতাল থেকে চলে যান। ঘটনার পর ডা. শাহরিয়ারকে একাধিক কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ডা. রেহানা ফেরদৌস জানান, ওই রোগীকে যেই ওষুধটা দেওয়া হয়েছে, সেটা গর্ভের মৃত বাচ্চা অপসারণের জন্য আমরা দিয়ে থাকি। এখন রোগীকে কেন এটা দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না। তবে এই ওষুধে পেটের জীবিত বাচ্চার ক্ষতি হয় না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ময়ল কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে ওই রোগীকে আমাদের হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছে। রিপোর্টে পেটের বাচ্চা ভালো আছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে আরেকটা আল্ট্রসনোগ্রাম করতে চেয়েছে। দুটি রিপোর্ট মেলালে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও ভুল চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কেন, এমন প্রশ্নের উত্তর মেলেনি আবাসিক এ ডাক্তারের কাছ থেকে। অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মুন্সী মুনিবুল হক বলেন, বিষয়টি আমি বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনেছি। আবাসিক মেডিকেল অফিসার আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। যতটুকু জেনেছি, ওই রোগীকে সাইটোমিক ২০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এই ট্যাবলেট একটি খাওয়ালে সাধারণত কিছু হয় না। তিনি বলেন, রোগী ভালো থাকলেও এখানে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। আগামী শনিবার আমি নিজে হাসপাতাল ভিজিট করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেব। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে কারও অবহেলা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




Archives

Image
বরিশালের স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ৬ পুলিশ প্রত্যাহারের পর শাস্তিমূলক বদলি
Image
বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ’র নেতৃত্বে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
Image
বরিশালে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ালেন চিকিৎসক!
Image
‘বার্তা সম্পাদক ফোরাম’ বরিশালের কমিটি গঠন
Image
বরিশালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা