Current Bangladesh Time
রবিবার অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » বরিশাল মহানগর আ’লীগের সম্মেলন কাল, পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ! 
Saturday December 7, 2019 , 7:17 pm
Print this E-mail this

বরিশাল মহানগর আ’লীগের সম্মেলন কাল, পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ!


নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ বাদে কাল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ সাত বছর পরে ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবসের দিন অনুষ্ঠিত হবে। আর তাই সম্মেলনকে ঘিরে নব বধুর সাজে সেজেছে গোটা মহানগরী। রাতের নগরীতে আলোক সজ্জার পাশাপাশি নির্মান হয়েছে শতাধিক তোড়ন। রাস্তার পাশে এবং সম্মেলন স্থলে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার।

এদিকে দীর্ঘ বছর পরে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠার আর উন্মাদনার যেন শেষ নেই। কে ধরবেন দক্ষিণাঞ্চলের মুল রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের হাল। বিশেষ করে সভাপতি পদে কে আসবেন সেটাই এখন চিন্তার আর দেখার বিষয়। সাধারণ সম্পাদক পদে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নামটি এককভাবে শোনা গেলেও সভাপতি প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ। আর এ তালিকায় নাম রয়েছে প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মেয়র পন্তী এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের নাম। তাই চলছে মুখরোচর আলোচনা আর চুল চেড়া বিশ্লেষন। এর যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যাও রয়েছে। কেননা নব্য কমিটিতে যারা স্থান পেতে যাচ্ছেন তারা সবাই এই মুহুর্তে বরিশাল আওয়ামীলীগের শ্রেষ্ঠ কান্ডারী এবং উড়ে এসে জুড়ে বসা নয়। আবার যারা কমিটিতে আলোচনায় আছেন তাদের বেশিরভাগই হেভিওয়েট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রার্থী। যে কারনে শুধু দল নয়, দলের বাইরেও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটি শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, মহানগর আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত একজনের নামই সর্বত্ত শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন বর্তমান কমিটির তিন নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক পদে তার অবস্থান অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছেন।তাছাড়া কাউন্সিল নিয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র রাজনৈতিক পূর্ব প্রস্তুতির দিক থেকেও এগিয়ে আছেন। অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের ৩০টি ওয়ার্ডে সম্মেলনে তিনি তার মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে যারা এসেছেন তারা সবাই সাদিক আবদুল্লাহ’র পরীক্ষিত সৈনিক। যে কারনে ভোটের মাধ্যমে তার সাধারণ সম্পাদক হওয়াটাও খুব সহজ হয়ে দাড়িয়েছে। তবে সভাপতি পদে কে আসবেন সেটাই এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সভাপতি পদে ৬ জনের নাম বেশ জোড়ে সোড়েই উচ্চারন হচ্ছে। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র অংশের নেতৃত্ব দেয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তার পাশাপাশি সাবেক সাংসদ ও সিটি মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরনের সহধর্মীনি এবং সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বর্তমান কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্বা সাইদুর রহমান রিন্টু এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর। এদের মধ্যে কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, জেবুন্নেছা আফরোজ আলোচার শীর্ষ স্থানে রয়েছে। যদিও আলোচনা হচ্ছে জাহিদ ফারুক শামীমকে নিয়ে। সিটি মেয়র সাদিক পন্থিদের টার্গেট তাকে থামিয়ে দেয়া। এ কারনেই সভাপতি পদে ডামি প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও সম্মেলনের আগে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতেও তেমন একটা রাজি নন। তবে প্রকাশে না বললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক আধিপত্য ভাঙা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। এ জন্য দ্বিতীয় শক্তির উদয় হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। সে দিক বিবেচনায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিকল্প অন্য কাউকে দেখছেন না তারা। এর যথাযথ কারনও রয়েছে।দলের নেতা-কর্মীরা বলেন, শওকত হোসেন হিরন জিদ্দশায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য সৃষ্টি করেছিলেন। তার মৃত্যুর পরে স্বামীর রাজনীতির অনেকটা হাল ধরার চেষ্টা করেন জেবুন্নেছা আফরোজ। রাজনৈতিক মার প্যাচে দলের টিকেট পেয়ে এমপিও হন তিনি। কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি হিরনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য। অসাংগঠনিক এবং অদক্ষতার কারনে কর্মী বিহিন নেতৃবনে যান জেবুন্নেছা আফরোজ। তার অযোগ্য নেতৃত্বে কোনঠাসা হয়ে পড়ে হিরন পন্থি বিশাল একটি অংশ পাড়ি জমান বিসিসি’র বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র ঘাটে। আর কিছু অংশ নিরবে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। তবে এ অংশটিই বর্তমানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের পিছু হাটছে। সংগত কারনেই জেবুন্নেছা আফরোজের সভাপতি হওয়াটা অনেকটা অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। এছাড়া সভাপতি পদ প্রত্যাশী আফজালুল করিম এরই মধ্যে সুবিধাবাদী নেতার খেতাব লাভ করেছেন। শওকত হোসেন হিরনের অন্যতম রাজনৈতিক সহচর আফজাল হিরনের মৃত্যুর পরে দীর্ঘদিন একলা পথে রাজনীতি করেছেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলের টিকেট পেতে ভেড়েন সাদিক আবদুল্লাহ’র কোড়ামে। যদিও কর্মী বিহিন নেতা আফজালের বিরুদ্ধে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ অভিযোগ অনেক পুরানো। এসব কারনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজালের সভাপতি হওয়ার গুরুত্বটাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে আলোচনা যাই হোক কমিটির সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উপরেই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদের নেতারা। তাদের দাবি সভানেত্রীই নির্ধারন করবেন কে ধরবে মহানগর আওয়ামী লীগের হাল। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে যত হিসাব নিকাশ হচ্ছে তার পুরোটাই পাল্টে যেতে পারে। আর এজন্য ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে সকলকে। এদিকে সম্মেলন প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর বলেছেন, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করতে যা করোনীয় তাই আমরা করছি। অবশ্য যা কিছুই হচ্ছে তার সবই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র দিক নির্দেশনা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে। তারা বলেন, অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে তিনটি পর্ব রয়েছে। এর মধ্যে সকাল ১টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শুরু হবে সম্মেলন। এতে ২৫ হাজারের বেশী কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও নেতা-কর্মী অংশগ্রহন করবে। এ কারনে সম্মেলনস্থল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিশাল প্যান্ডেল ও নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু-এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবিক্ষণ কমিটির মন্ত্রী মর্যাদার আহ্বায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন শওকত হোসেন হিরন। তাঁর মৃত্যুর কারনে কাউন্সিলের চার বছর পরে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটি দেয় কেন্দ্র। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের গত ১৯ অক্টোবর। এর বাইরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহনের কথা রয়েছে। পাশাপাশি কাউন্সিলে ৩০টি ওয়ার্ডের ৬০ জন সভাপতি-সম্পাদকসহ মোট ৩৭১ জন কাউন্সিলর চূড়ান্ত হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে নগরীর বরিশাল ক্লাবে কাউন্সিল এবং সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে জমকলো এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।





Archives

Image
নাজমুল হত্যার বিচার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ
Image
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
Image
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
Image
বরিশালে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
Image
মাদক-জুয়া বন্ধের ঘোষণা দেওয়া বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার