|
পরস্পর যোগসাজশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করার পরিকল্পনার অভিযোগ
বরিশালে গোপন বৈঠকের সময় আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার নেতা কারাগারে
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : গোপন বৈঠকের সময় আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (এপ্রিল ৩) রাতে নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর করা মামলায় শনিবার (এপ্রিল ৪) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান।

কারাগারে যাওয়া নেতারা হলেন–বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও নগরীর আর্শেদ আলী কন্ট্রাক্টর গলির নাহার ম্যানশনের ভাড়াটিয়া গাজি হাফিজুর রহমানের ছেলে মুয়ীদুর রহমান বাকী (৩৩), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কায়েমকোলা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসাইনের ছেলে মাহমুদুল হাসান তমাল (২৬), সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আটখালী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মোল্লার ছেলে রাকিব হাসান রনি (৩০) এবং মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও কুষ্টিয়া সদরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম খানের ছেলে আকরাম খান ইমন (২৭)। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের ২২ নম্বর রোডে ছায়া নিকেতন বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা একত্রিত হয়ে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আমাদের কাছে খবর ছিল এই বাসায় মাদকের কারবার চলে। তাদের অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর করা মামলার আসামি হিসেবে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গোপন সভা করার মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম গতিশীল ও উৎসাহিত করা এবং সহায়তা করে সরকার পতন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিরা ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন জানার পরেও সংগঠনের কর্মকাণ্ড শক্তিশালী, গতিশীল ও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছিল বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর মারমুখী আচরণ, তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও খুনের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের একজন মাহমুদুল হাসান তমাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমার এই ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী গ্যাঞ্জামে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে এসেছে ছাত্রদলের কিছু পোলাপান। আমি তাদের বলেছি, আমি তোমাদের ভার্সিটির বড় ভাই। আমি এই বাসায় থাকি, আমি এ বিষয়টি দেখছি পুলিশের উপস্থিতিতে। তাদের চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ার কারণে তারা এই মব সৃষ্টি করছে।
Post Views: ০
|
|