|
জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়া সত্ত্বেও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত নন
গুলির আঘাতে ভুগছেন জিয়াউদ্দিন সিকদার, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায়
জিয়া উদ্দিন সিকদার (যিনি জিয়া শিকদার নামেও পরিচিত) হলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। তিনি বরিশালের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, তিনি মহানগর বিএনপির অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি পান এবং দলের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বরিশালের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সাথে সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ১৭ বছর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বরিশালে নগরীর রূপাতলী এলাকা। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়ার নেতৃত্বে সেখান থেকেই বিক্ষোভ মিছিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হতো। এ কারণে ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে থাকতো বরিশাল রূপাতলী। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জিয়া সিকদার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথ উত্তাল করে তুলতেন। এসব কারণে অর্ধশতার্ধিক মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এমনকি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তাকে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়। তাতেও দমাতে পারেনি। ওই সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে বরিশালে আনা হয়। চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয়নি। এজন্য তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হলে জিয়া শিকদার জানান, সংঘর্ষে তার মাথা, হাত ও পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং তিনি মারাত্মক রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়েন। প্রথমে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তৎকালীন পরিস্থিতিতে তাকে চিকিৎসার পরিবর্তে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ফলে তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা তখন ব্যাহত হয়। ঐ হামলায় তার ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় একটি হাড় ভেঙে যায়, যা তখন অন্যান্য গুরুতর আঘাতের কারণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফলে বর্তমানে তার ডান হাতে জটিলতা ও ব্যথা ক্রমশ:ই বৃদ্ধি পায়।
সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১৬ এপ্রিল বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিজ্ঞ সার্জন ডা: জহিরুল হক মানিকসহ অন্যান্য চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষায় হাতে হাড় ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। চিকিৎসকরা জানান, যথাযথ চিকিৎসা না হলে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে দ্রুত ঢাকায় বিশেষায়িত অর্থোপেডিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, জুলাই আন্দোলনের সময় বিএনপির কর্মী বিবেচনায় আহত হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, যা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে।
 প্রতিবেদকের সাথে জিয়া শিকদার
উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি আজ মঙ্গলবার (মে ৫) ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে মুঠোফোনে জানান। বুধবার থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলবে বলেও জানিয়েছেন৷ বরিশাল তথা দেশবাসীর কাছে দোয়াও চেয়েছেন তিনি।
লেখক/সাংবাদিক : সুব্রত বিশ্বাস
Post Views: ০
|