প্রতিদিনই করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে নদীপথ কিংবা স্থলেপথে গোপনে নিজ বাড়িতে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ
ক্ষুধার যন্ত্রণায় খাল সাঁতরে বরিশালে ঢুকছে ক্ষুধার্ত মানুষ
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : ‘দুইদিন শুধু পানি ছাড়া কিছু খাই না। ক্ষুধার জ্বালায় আর পারছিলাম না, তাই জীবনের ঝুঁকি জেনেও মোরা আইছি। অন্য জেলায় কেউ মোগো ত্রাণ পর্যন্ত দেয় নাই।’ এমনই আহাজারি লকডাউনে থাকা মাদারীপুরে আটকে পরা ইটভাটার এক শ্রমিকের। সেখানে থেকে অনেকের সঙ্গে তিনিও রওনা হন বরিশালের উদ্দেশে। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন হওয়া জেলার মধ্যে মাদারীপুর জেলা অন্যতম। বরিশালবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে ইতিমধ্যে বরিশালকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। বরিশালে প্রবেশ করতে এত কঠোরতার পরও থামানো যাচ্ছে না বিভিন্ন জেলায় আটকে পরার পর ক্ষুধার যন্ত্রণায় থাকা ঘরমুখো মানুষদের। প্রতিদিনই করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে নদীপথ কিংবা স্থলেপথে গোপনে নিজ বাড়িতে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। বরিশাল বিভাগের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে কেউ ঢুকতে না পারছেন না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ভুরঘাটা ব্রিজের পশ্চিম পাশে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। কেউ গামছা পরে কিংবা লুঙ্গি পরে বাড়ি ফেরার জন্য ভুরঘাটার খাল পারি দিচ্ছে। কর্মস্থলে না থাকার পরিবেশ ও ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তারা ঘরমুখো হয়েছেন। ক্ষুধার যন্ত্রণার ভয় এদের মধ্যে দেখা গেলেও চোখে না দেখা করোনার ভয় এদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি। তবে কর্মস্থলে থাকা-খাওয়ার পরিবেশ থাকলে কেউই ঘরমুখো হতো না বলেও তারা (শ্রমিকরা) উল্লেখ করেছেন। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের আগে থেকে বরিশালের প্রবেশদ্বারগুলো চলাচলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি ফাঁকি দিয়ে অনেকে প্রবেশ ও বাইর হওয়ার চেষ্টা করছেন বিভিন্ন উপায়ে। বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, বরিশালবাসীকে নিরাপদ রাখতেই লকডাউন করা হয়েছে পুরো জেলাকে। কেউ আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে বরিশালে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।