Current Bangladesh Time
সোমবার আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করতেই এ ধ্বংসযজ্ঞ 
Sunday July 28, 2024 , 5:09 am
Print this E-mail this

খুনের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করতেই এ ধ্বংসযজ্ঞ


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : সাম্প্রতিক সহিংসতায় খুনের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের বিচার করতে হবে, তা না হলে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না। রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে গণভবনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের সহিংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু এবং ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করতেই দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। এটাই বোধ হয় এর পেছনে তাদের ষড়যন্ত্র। গতকাল শনিবার সকালে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের দেখতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর) পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের।আবেগঘন কণ্ঠে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতেই এই ষড়যন্ত্র। দেশের মানুষকে এই সহিংসতার বিচার করতে হবে। কোটা আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউনের জন্যই এত মানুষ হতাহত হলো। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে সব একদিকে ছারখার। আর কত মানুষ প্রাণ হারাল, কতগুলো মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। সব দাবি মেনে নেওয়ার পরও তাদের সেই শাটডাউন কেন শেষ হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এভাবে আর কেউ যেন কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন করে দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের অঙ্গহানি হয়েছে, তাদের কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের ব্যবস্থা নেবে তার সরকার। যাতে তারা আবার সুস্থ মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারে। নিজেদের কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সাধ্যমতো আমরা করে দেব; কিন্তু দেশবাসীর কাছে আমি বিচার চাই। অপরাধটা কী করেছি? এই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ আর কেউ যেন এই দেশে চালাতে না পারে, সেই জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই। শেখ হাসিনা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আহতদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালেও বিএনপি-জামায়াত এই রকম তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল। আওয়ামী লীগের প্রায় ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। কত মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে, হাত-পা কেটে দিয়েছে, চোখ তুলে নিয়েছে, অত্যাচার-নির্যাতন ও নারীদের পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আবার ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করা হয়। চারদিকে আগুন লাগানো, গাড়ির মধ্যে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, আবার ২০২৩ সালে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করে তারা। নেতাকর্মীকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা, বারবার পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা–এটা কোন ধরনের রাজনীতি আমি জানি না। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সাল আর আজকে ২০২৪ সালের বাংলাদেশ এক নয়, আমাদের অর্থনীতি কত ওপরে উঠে গিয়েছিল, সেই অর্থনীতিকে পঙ্গু করে বাংলাদেশকে আবার ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করে বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা। দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে যখন একটা জায়গায় নিয়ে এলাম, তখন চারদিকে জ্বালাও-পোড়াও। যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষকে সেবা দেয়, সেগুলোর ওপর বেশি তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। মেট্রোরেলে চড়ে কত অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং ফিরতে পারতেন। সেখানে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, সাধারণ মানুষ সবাই যেতে পারতেন। সেই স্টেশনগুলো ধ্বংস করে এখন আবার যানজট ও মানুষের কষ্ট বেড়েছে। কভিড-১৯ চলাকালে যে হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা পেয়েছে, সেখানেও আগুন দিয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করাই কি তার অপরাধ–সেই প্রশ্ন দেশবাসীর প্রতি ছুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। নিটোর পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম উজ্জামান আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত মহাখালীতে অবস্থিত সেতু ভবন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেতু ভবনে প্রবেশের পর তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে এর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখে হতবাক হয়ে যান। গত ১৮ জুলাই কয়েকশ দুষ্কৃতকারী সেতু ভবনে প্রবেশ করে এটি ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা ভবন থেকে সরকারি সম্পত্তি লুট করে। একই সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজার ধ্বংসযজ্ঞও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্টরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




Archives

Image
বরিশালে ৬% ‘কমিশন’ নেওয়া এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক জামালকে ঘিরে প্রশ্ন!
Image
বরিশালে এক হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
Image
বরিশাল জিলা স্কুলে বার্ষিক মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত মাহফিল
Image
বরিশালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল
Image
প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি : ‘লাশ পড়বে, তবু চেয়ার ছাড়ব না’