|
প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে চালুর দাবি
বরিশালের ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি নগরবাসীর
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল বিভাগের একমাত্র ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি নগরবাসীর। দীর্ঘ ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জানা যায়, দেশের আট বিভাগে একটি করে শিশু হাসপাতাল স্থাপনের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২ একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত চারতলা এই ভবনে অপারেশন থিয়েটার, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনসহ নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময়সীমা পেরিয়ে যায় প্রায় পাঁচ বছর। সম্প্রতি ভবনের কাজ শেষ হলেও এখনও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে হাসপাতালটিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীনে এনে শিশু ওয়ার্ড হিসেবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য কমপক্ষে সাড়ে ৩শ জনবল প্রয়োজন। অথচ এখনো কোনো জনবল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমরা নিজেরাই জনবল সংকটে আছি। তাছাড়া হাসপাতালটি মেডিকেল থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে—এ অবস্থায় পরিচালনা করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কাঠামোতে হাসপাতালটি পৃথকভাবে পরিচালনা করাই যুক্তিযুক্ত হবে। অন্যদিকে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৫০০-র বেশি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। বছরে প্রায় ৮ লাখ শিশু এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। সীমিত জায়গা ও জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবার মান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে শিশুরা নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম আর তালুকদার মুজিব বলেন, শের-ই বাংলা মেডিকেল একটি টিচিং হাসপাতাল। এখানে শিক্ষার্থীরা শিশু রোগ সম্পর্কে সরাসরি শিখে। শিশু ওয়ার্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাছাড়া এত দূরে শিশুদের নিয়ে যাওয়া বাস্তবসম্মত নয়। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, নকশা জটিলতা ও অন্যান্য কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং বাকি কাজের জন্য আরও প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতাল ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক। স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি চালু না হলে বরিশাল বিভাগের লাখো শিশুর চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়—দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শিশু হাসপাতাল আদৌ আলোর মুখ দেখে কিনা?
Post Views: ০
|
|