|
তদন্ত শেষে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
বরিশালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইঞ্জিনিয়ার লোকমানের গোমর ফাঁস, ফেরত দিলেন চাঁদার টাকা!
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে পল্লী বিদ্যুতের মিটার খুলে বা ট্যাম্পারিংয়ের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন সাহেবের হাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি সাংবাদিকরা টের পেলে চাঁদার টাকা ফেরত দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন লোকমান। বিষয়টি গড়ায় বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমানের কাছে। তিনি তাৎক্ষনিক বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এদিকে ওই অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওযার অভিযোগ দির্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে- নানা অযুহাতে মিটার খুলে নিয়ে মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। এছাড়াও এক মাসের বিল আরেকমাসে দেওয়া, মিটারের রিডিংয়ে গড়মিল, বিলে ইউনিট বাড়িয়ে দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে গ্রহকদের। কোনো কোনো গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিসে গিয়ে বিলের কাগজ ঠিক করে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ যেমন আছে তেমনই বিল দিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গত ১২ মার্চ চরমোনাই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডস্থ চর হোগলা গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু ওঝার মিটারটি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে খুলে নিয়ে যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লোকমান হোসেন ও লাইনম্যান একরামুল। এরপর সেন্টু ওঝা সাহেবের হাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাকে মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দালাল ফয়সালের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন ইঞ্জিনিয়ার লোকমান। তার কথানুযায়ী সেন্টু ফয়সালের সাথে কথা বললে তিনি মিটার ফিরিয়ে দিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ১৬ হাজার টাকার বিনিময় ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় মিটারটি ফেরত দেওয়া হয়। তবে মিটারটি লাগাতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কোন কর্মচারী আসেনি, ফয়সাল একজন স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান এনে মিটারটি লাগিয়ে দেন। সেসময় সংবাদ পেয়ে সেন্টুর বাড়িতে ছুটে যান সাংবাদিকরা। এ সময় ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লোকমান হোসেন ও লাইনম্যান একরামুল এসে তার কাছে মিটারটি দিয়ে গেছেন। তারা লাগিয়ে দিতে বলেছেন। সেন্টু ভাই আমার কাছে গেছেন তাই আমার কাছে মিটারটি দিয়ে গেছে। আমি আর কিছু জানিনা। এরপর বিষয়টি জানতে ইঞ্জিনিয়ার লোকমানের মুঠোফোনে কল দিলে তাৎক্ষনিক লাইনম্যান একরামুলকে নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ছুটে আসেন তিনি। এসে সেন্টুর কাছ নেওয়া ১৬ হাজার টাকা ফেরত দেয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ম্যানেজে চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। বিষয়টি বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার এ.বি.এম মিজানুর রহমানকে অবহিত করেন সাংবাদিকরা। তিনি তাৎক্ষনিক অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য বাকেরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাজহারুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এদিকে লাইনম্যান একরামুল বলেন, ভাই (সাংবাদিক) আমি টাকা-পয়সা নেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না। সব করেছে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লোকমান স্যার। আমি শুধু চাঁদার টাকাটা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকেরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লোকমান হোসেনের চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করছি। এখনই কিছু বলা যাবে না। তদন্তে পুরো বিষয়টি সামনে আসবে। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে তাৎক্ষনিক তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Post Views: ০
|
|