|
হাসপাতালের ভিতরের পরিবেশ সত্যি খুবই নোংরা আর অপরিচ্ছন
১৫ দিন ধরে পানি সংকটে বরিশাল সদর হাসপাতাল
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : গত ১৫ দিন ধরে পানি সংকটে বরিশাল সদর হাসপাতাল। হাসপাতাল ও আবাসিকে পানি না থাকায় নানা র্দুভোগে নানা কস্টে জর্জারিত এখানকার রুগী, আবাসিকে বসবাসরত ডাক্তারসহ অন্যান্য নিরীহ মানুষগুলো। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভিতরে একটি মাত্র টিউবওয়েল কিন্তু তা দিয়ে টেনে টেনে পানি নিয়ে যাবতীয় কাজ করা সত্যিই কস্টের। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আরএমও (ডা: দেলোয়ার হোসেন)’র ব্যক্তিগত (০১৭১৫০…….৩৩) নম্বরে কল দিলে বিষয়টি নিয়ে দু:খ প্রকাশ করে বলেন,‘টিএনও ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। যে ছেলেটি নতুন পাম্প মেশিনটি লাগানোর কথা, তার বাবা মারা যাওয়ায় কাল বিলম্ব হচ্ছে। আশারাখি ২/১ দিনের মধ্যেই এর একটি সুরাহা হবে।’ ইতিপূর্বেও তিনি বেশ কয়েকবার এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হাসপাতালের ভিতরের পরিবেশ সত্যি খুবই নোংরা আর অপরিচ্ছন। বাথরুমগুলো অপরিস্কার আর র্দুগন্ধে ভরা। এছাড়া হাসপাতালের ভিতরে বন-জঙ্গল বড় হয়ে যাওয়ায় মশার উপদ্রবও বেশী। হাসপাতালের ভিতরকার ডাক্তারদের আবাসিক ভবনগুলোও বসবাসের অনোপযুগি হয়ে পড়েছে। পলেস্তার খসে খসে পড়ছে। যে ভাড়া সরকার থেকে নির্ধারণ করা হয় বা হচ্ছে তার চেয়ে বাইরে ভালো বাসা ভাড়া করে থাকা যায় বলে হাসপাতালের কতিপয় ডাক্তারদের অভিযোগ। এছাড়া সন্ধ্যার পর ভিতরে মাদক সেবীদের আড্ডাও বসে। নেই পর্যাপ্ত আলো, নেই তেমন কোন সিকিউরিটির ব্যবস্থা। পাশাপাশি সরকার বঞ্চিত হচ্ছেন একটি বিশাল রাজস্ব আদায় থেকেও। উল্লেখ্য, বরিশাল সদর হাসপাতাল১৮৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ বরিশালে আধুনিক চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। চাদসীর ক্ষত চিকিৎসা ও বালাবাড়ির চিকিৎসাই চিকিৎসা ক্ষেত্রে এতদঞ্চলের অবলম্বন ছিল। ১৮৪৭ সালে বরিশালে একটি চ্যারিটেবল ডিসপেনসারী প্রতিষ্ঠিত হয়। একজন সাব এ্যাসিস্টান্ট সার্জন এর পরিচালক ছিলেন। এই চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি পরবর্তীতে বরিশাল সদর হাসপাতালে রূপ লাভ করে। সদর হাসপাতাল ভবন নির্মিত হয় ১৯১০ সালে। পরবর্তীতে বর্ধমান ও বরিশাল হাসপাতাল অবিভক্ত বাংলায় উন্নত ছিল। হাসপাতাল ভবন নির্মাণে অনেকে চাঁদা ও জমি দিয়েছেন। পূর্ববঙ্গের লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার ল্যান্সলট হেয়ার ১৯১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ১৯১২ সালের ১৩ জুলাই হসপিটাল উদ্বোধন করেন। ১৯২৫ সালে বানারীপাড়ার বাইশারির ইন্দ্রনাথ দত্ত তার মা’র নামে গোলকমণি মহিলা ওয়ার্ড, কালীচন্দ্র ১৯৩৮ সালে শশীমুখী অপারেশন থিয়েটার, ১৯৩৮ সালে ব্যারিস্টার নলিনীগুপ্ত ও তার ভাই বিনয়গুপ্ত তাদের পিতা ও মাতার নামে জগচন্দ্র ও মুক্তাকেশীর নামে দু’টি পেয়িং ওয়ার্ড নির্মাণ করেন। রাজাপুরের সাতুরিয়ার জমিদার মেহেরুন্নেছা ভবনের জন্য জমি প্রদান করেছিলেন। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত একটি কমিটি হাসপাতাল পরিচালনা করত। ১৯৪৪ সালে কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার হাসপাতালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে এই হাসপাতালটিকে অভিযোগের যেন শেষ নেই। আউটডোরে রুগী দেখিয়ে বের হওয়া মাত্রই ডাক্তারদের এটেনডেন্টরা রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলে হাসপাতালের সামনেই অবস্থিত ‘পদ্মা ল্যাব’ থেকে করাতে বলেন। এমনকি ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তাররা ওষধের কথা উল্লেখ করলে, তা রুগীরা কোন ফার্মেসী থেকে কিনবেন তা বলতেও একটুও দ্বীধা বা কুন্ঠিত বোধ করেন না-এমনটাই অভিযোগ ভারতী (২৮) নামের এক ভুক্তভুগি রুগীর। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্কেও টিকা হাসপাতালটিতে থাকলেও তারা নেই বলেই এড়িয়ে যান।
Post Views: ০
|
|