মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : ভোটের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার–২০২৬ ঘোষণা করা হয়েছে। ইশতেহারে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে দলটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইশতেহার উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
১. ইশতেহারে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আওতায় প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদারের কথা বলা হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
৩. স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ব্যবস্থা গড়তে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার, প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগের অঙ্গীকার করা হয়।
৬. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
৭. পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর অঙ্গীকারও রয়েছে ইশতেহারে।
ইশতেহার উপস্থাপনকালে তারেক রহমান বলেন, এটি কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।