|
জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে এখনো রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা
উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ক্যান্সার হাসপাতাল
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের উন্নত চিকিৎসার স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নির্মাণাধীন ১৭ তলা বিশিষ্ট ‘বিভাগীয় ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ’ হাসপাতালের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। দ্রুত অবকাঠামো বুঝিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় চললেও জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে এখনো রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও ধোয়া-মোছার কাজ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০২৬ সালের শেষের দিকে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে পারে। প্রায় আড়াই একর জমির ওপর ২৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৬০ শয্যার এই বিশেষায়িত হাসপাতাল। গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, ভবনটির ২য় থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত থাকবে ১৮২ শয্যার ক্যান্সার ইউনিট। ৮ম থেকে ১২শ তলা পর্যন্ত থাকছে ১৫৬ শয্যার নেফ্রোলজি ও কিডনি সেন্টার। আর ১৩শ থেকে ১৭শ তলা পর্যন্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ শয্যার হৃদরোগ ইউনিটের জন্য। ভবনে আধুনিক লিফট, চলন্ত সিঁড়ি, সেন্ট্রাল এসি ও নিজস্ব সাবস্টেশনসহ সব ধরনের উন্নত সুবিধা থাকছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে ভবনটি শেষ না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ রয়েছে। বরিশাল সমাজ সচেতন নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অভাব ও গণপূর্ত বিভাগের তদারকির গাফিলতিতে প্রকল্পটি দীর্ঘায়িত হয়েছে। বড় কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে অনেক আগেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই সেবা পেত বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে বরিশাল বিভাগে ক্যান্সার বা কিডনির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নেই। জটিল রোগে আক্রান্তদের ছুটতে হয় ঢাকা কিংবা বিদেশে। শেবাচিম হাসপাতালে ক্যানসার ইউনিটের অভাবে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৪০ জন রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা ও চিকিৎসা ব্যয়–দুই-ই কমবে। অবকাঠামো নির্মাণ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ শেষ হলেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরঞ্জাম কেনাকাটা বা চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি মেলেনি। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বা গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে স্বস্তির খবর হলো, শেবাচিমে এরই মধ্যে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন চালু হয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিকে যেখানে ছয় মাসের ডায়ালাইসিসে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়, সেখানে সরকারি এই ইউনিটে মাত্র ২০ হাজার টাকায় মিলছে সেই সেবা। এখন ১৭ তলা বিশিষ্ট এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে দক্ষিণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
Post Views: ০
|
|