Current Bangladesh Time
বুধবার আগস্ট ৫, ২০২৬ ২:১১ পূর্বাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » বরিশালে একই মোহনায় বিপ্লব-মণিষা : শাকিব বিপ্লব 
Tuesday June 16, 2020 , 9:35 pm
Print this E-mail this

আলোচনার এক ফাঁকে দু’জনে ক্যামেরা বন্ধী হন, অনিচ্ছা সত্বেও রুপ নেয় ফটোসেশনে

বরিশালে একই মোহনায় বিপ্লব-মণিষা : শাকিব বিপ্লব


শাকিব বিপ্লব, অতিথি প্রতিবেদক : করোনা যুদ্ধে বরিশালে নতুন পথ ধরেছেন যুবদল নেতা পারভেজ আকন বিপ্লব ও বাসদ নেত্রী মনিষা চক্রবর্তী। মরনব্যাধী এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের লকডাউনে থাকা পরিবারের সহতায় দেয়ার নতুন উদ্যোগ নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি উপস্থিত হচ্ছেন। দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী-ঔষধ ও চিকিৎসা পরার্মশ। গত ১৫দিন ধরে বরিশাল রাজনীতির দুই মেরুর এই নেতা-নেত্রী এ ধরনের রোগীদের পাশে দাড়িয়ে উদারতার নতুন মাত্র সৃষ্টি করলেন। শহরের পলাশপুরে করোনা আক্রান্ত জনৈক এক রোগীর বাড়িতে সহয়তা দিতে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে উভয়ে মুখোমুখি হন। এসময় করোনা আক্রান্ত লকডাউনে থাকা পরিবারদের পাশে দাড়ানোর উদ্যোগের পারস্পারিক চিন্তাচেতনা বিনিময় করেন। উভয় নেতা একথা স্বীকার করে বলেন, সাম্প্রতিকালে করোনা আক্রান্ত হওয়া পরিবারদের মধ্যে অনেকে দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী, যারা খাদ্য সংকটে ভুগছেন। আবার কেউ চিকিৎসা পরার্মশ সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাশে যাওয়া তো দূরের কথা, সাহায্যের জন্য ডাকলেও স্বজনরাও কাছে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। আর মৃত্যু ঘটলে তো ভংঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখিতে মরদেহ দাফন বা সৎকারের জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবরে কোয়ান্টাম নামের একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ইতিপূর্বে মাঠে নেমেছে। কিন্তু এসব পরিবারের পাশে দাড়ানোর মানুষের সংকট, বিষয়টি গুরুত্ব ও মানবিকতা অনুধাবন করে গত ৫জুন বরিশাল জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব তার নিজস্ব ফেইজবুক আইডিতে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ফেইজবুক লাইভ এসে লকডাউনের আওতায় থাকা পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন মনে করলে তার সাথে যোগাযোগের অনুরোধ রাখেন। বিশেষ করে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ কিন্তু করোনায় আক্রন্ত হয়ে খাদ্যে অভাবে ভুগছেন, তাদেকেই যোগাযোগের জন্য বলা হয়। এছাড়া মধ্যবৃত্ত পরিবারাও গোপনে সহয়তা নিতে পারেন বলে জানানো হয়। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের এই নেতা জানান, ঘোষণা দেয়ার পর বেশ কয়েকটি পরিবার তার সাথে যোগাযোগ করে খাদ্য সহয়তা চেয়েছিলো। এর পরেই নিজস্ব অর্থয়ানে সহয়তার জন্য লকডাউনে আওতায় থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান। দিয়ে আসেন-একটি মুরগি, ১০কেজি চাল, ২কেজি আটা ও তেল সহ সিভিট ট্যাবলেট। গত ৫ জুন থেকে এ পযর্ন্ত অন্তত ১৫টি পরিবারকে এ ধরনের সহয়তা দিয়েছেন। এছাড়া নিজ উদ্যোগে সন্ধান নিচ্ছেন এধরনের কোন পরিবার রয়েছে কিনা, যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন অথচ পরিবার অর্থ কষ্টে খাদ্য সংকটে ভুগছেন। এধরনের পরিবারের সন্ধান নিশ্চিতে বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলের সহয়তা চাইলে কালবিলম্ব করায় এখন পারভেজ আকন বিপ্লব নিজেই মাঠে নেমেছেন। এদিকে সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ নেত্রী মনিষা চক্রবর্তী একই ভাবনা থেকে করোনা আক্রান্ত লকডাউনে থাকা পরিবারদের নানা মুখি সহয়তার দেয়ার ঘোষণা দেন। যুবনেতা বিপ্লবের উদ্যোগের একদিনের ব্যবধানে গত ৬জুন শহরের ফকির বাড়ি সড়কে বাসদের দলীও কার্যালয় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নেত্রী তাদের নতুন এই কর্মসূচির অনুষ্ঠানিক প্রচার করেন। অবশ্য তাদের সহয়তার ধরন একটু ভিন্ন বলে জানা গেছে।
মনিষা চক্রবর্তী জানান, করোনা আক্রান্ত যে কোন রোগীদের জন্য প্রথম ধাপে সহয়তা স্বরুপ এ্যাবুলেন্স পাঠিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেন। পরবর্তিতে এ ধরনের রোগীদের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করার উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেন। কখনো নিজেদের আগ্রহ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগীদের পরিবার তাদের সাথে যোগাযোগ করা মাত্রই পথ ধরে পৌঁছে যান বাড়িতে। যথা সম্ভব ঔষুধ সামগ্রী ও খাদ্য দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আবার যে সব পরিবারে শিশুরা রয়েছেন তাদের জন্য খাদ্যের বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। অনেকে জেলা শহরের বাহিরে উপজেলা থেকেও সেল ফোনে চিকিৎসা পরার্মশ নিচ্ছেন পেশায় ডাক্তার মনিষা চক্রবর্তীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। তবে এই উদ্যোগের বিড়ম্বনার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান উভয় নেতা-নেত্রী। তাদের ভাষায়, করোনা আক্রান্ত হয়েছে অনেক পূর্বে কিন্তু এখনো চিকিৎসা চলমান এমন পরিবার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ১৪ দিনের লকডাউন অতিক্রম করেছে, এ ধরনের অনেকেই সহায়তা চাচ্ছেন। অবশ্য মনিষা চক্রবর্তী সহায়তা প্রাপ্তি দাবীদারদের নানাভাবে পাশে থাকলেও পারভেজ আকন বিপ্লবের পরিকল্পনায় রয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তিনি চান, যারা লকডাউনের আওতায় রয়েছে, এসমস্ত পরিবারের ১৪দিন অতিবাহিতকালীন খাদ্য সহায়তা দিতে। ইতিপূর্বে বরিশালে করোনা দূর্যোগ শুরু হলে খাদ্য সংকট সম্ভবনা ও সচেতনতা সৃষ্টিতে উভয় নেতা-নেত্রী দুই প্রান্ত থেকে নানামুখি সহয়তা দেন। বিশেষ করে খাদ্য পৌঁছে দেয় দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে। আবার মধ্যবিত্ত পরিবার যারা সহয়তা চাইতে লজ্জায় মুখ ঢেকে রাখছেন তাদের দরজায় গোপনে উপস্থিত হয়ে বরিশাল রাজনীতিতে সহায়তার আলোক বর্তি হিসাবে উভয় আলোড়ন সৃস্টি করেন। উল্লেখ্য, এই দুই নেতা-নেত্রীর বাহিরে আ’লীগের নগর সম্পাদক ও সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে খাদ্য সহয়তা দিয়ে আসছেন। একটি প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বরিশাল জেলায় বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়ার্ত রুপ নিয়েছে ১৫দিনে অর্থাৎ ১জুন থেকে ১৫জুন পযর্ন্ত গত ১৫ দিনে ৬৫২ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। গত ১২ এপ্রিল বরিশালে প্রথম করোনা রোগীর অস্থিত্ব পাওয়া যায়। এখন তা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল সোমবার পযর্ন্ত ৯৭৮ জন শনাক্ত হয়ে করোনা টেস্টে। এপযর্ন্ত মারা গেছে ১৩ জন। অবশ্য আরো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কিন্তু তাদের দেহ থেকে নমুনা নেয়া হলেও এখনো ফলাফল না আসায় মৃত্যুর তালিকায় নাম অন্তভুর্ক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে গত ১৫দিন ডেঞ্জার টাইম বিবেচনায় পারভেজ আকন বিপ্লব ও মনিষা চক্রবর্তী একই মোহনায় মিলিত হয়ে এবার নতুন উদ্যোগে করোনা রোগীদের সহয়তায় এগিয়ে এসে আলোচনায় প্রশংসার নতুন প্রেক্ষাপট রচনা করলেন। তবে গত সপ্তাহে কোন একদিন বিকেলে নগরীর পলাশপুর এলাকায় করোনায় আক্তান্ত লকডাউন থাকা এক রোগীর বাড়িতে উভয়ে সহয়তা দিতে গিয়ে পথিমধ্যে মুখোমুখি হন। এই সাক্ষাৎ ছিলো অনেকটাই ঘটনা চক্রে। এসময়ে নিজ নিজ আঙ্গিক থেকে করোনা আক্রান্ত পরিবারের সহয়তার বিষয় নিয়ে আলোচনার এক ফাঁকে দু’জনে ক্যামেরা বন্ধী হন, অনিচ্ছা সত্বেও রুপ নেয় ফটোসেশনে।




Archives

Image
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা সদৃশ বস্তুর রহস্যজনক বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
Image
গরমে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে ২০-২৫ বার লোডশেডিং
Image
বরিশালে সংবাদ সংগ্রহ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি
Image
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে : রহমাতুল্লাহ
Image
বরিশারে অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ফেরারী আসামী ফয়জুল হক গ্রেপ্তার