প্রচ্ছদ » Uncategorized » বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক শিশু কণ্যার ইজ্জত বিক্রি করলো এক নেশাগ্রস্ত পিতা
Friday July 10, 2020 , 3:25 pm
আপনার আমার চেয়ে শিশুর মা-বাবাই বড় অভিভাবক, তাদের সহয়তা না পেলে সেটি শিশুর জন্য দুর্ভাগ্য
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক শিশু কণ্যার ইজ্জত বিক্রি করলো এক নেশাগ্রস্ত পিতা
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : এক শিশুকণ্যার ইজ্জত বিক্রি করলো এক নেশাগ্রস্ত পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামের মৃধা বাড়ি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাকির মৃধার শিশু কন্যা (৬) কে ঘরে ডেকে নেয় একই বাড়ির মৃত আ: কাদের মৃধার পুত্র নান্নু মৃধা (২৫)। পরে একটি কক্ষের মধ্যে আটকে ধর্ষণ করে ওই বখাটে। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় শিশুটিকে। কিন্তু শিশুটির নিতম্বে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করায় পরের দিন বিষয়টি জানাজানি হয়। ওমান প্রবাসী শিশুর মা শাহিদা বেগম জানান, ঘটনার পরের দিন তিনি ফোন করলে বিস্তারিত জানতে পারেন। ঘটনা শোনার পরপরই তার পিতা জাকির মৃধার সাথে শিশু কন্যাকে বাকেরগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই সজল রায় ও এএসআই ফারুক হোসেন জানান, ধর্ষিতা শিশুর পিতা জাকির মৃধা মামলা করতে রাজি নয়, এ কারণে তাদের কিছুই করার নেই। অপরদিকে, শিশুর বড় ভাই রবিউল মৃধা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে বুধবার (৮ জুলাই) বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিশুর মা শাহিদা বেগম ওমান থেকে ভিডিও কলে সাংবাদিকদের কাছে ধর্ষকের কঠোর শাস্তি দাবী করেন। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, ক্ষুধার তাড়নায় বিদেশে এসে জীবন বাজি রেখে সন্তানের জন্য কাজ করছি। যে সন্তানদের জন্য দেশের সবকিছু ছেড়ে প্রবাস জীবন-যাপন করছি সেই সন্তানের ধর্ষকদের বিচার না হলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই। স্থানীয়রা জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ধর্ষিতা শিশুর পিতা জাকির মৃধা নেশাগ্রস্ত। এ কারণে তার কোন তাল ঠিক নেই। ধর্ষকের পরিবার থেকে কিছু টাকা-পয়সা পাওয়ায় নেশার ঘোরে সন্তানের জীবনের কথা ভুলে গেছেন পিতা। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম অভিযোগ দায়েরের কথা অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ না পেলে আমাদের কিছুই করার নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, আপনার আমার চেয়ে শিশুর মা-বাবাই বড় অভিভাবক। তাদের সহয়তা না পেলে সেটি শিশুর জন্য দুর্ভাগ্য। অভিভাবকের কারণে শিশুটি কী বিচারহীনতায় ভুগবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মাধবী রায় ওসির সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।