মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলা বছরকে বরণ করে নিতে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলতে বরিশালে দিন-রাত ব্যস্ত সময় কাটান উদীচী এবং চারুকলার সংগঠক ও কর্মীরা। পাশাপাশি নৃত্য ও কন্ঠ শিল্পীরাও সময় কাটান অনুশীলনীর মধ্য দিয়ে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নগরীতে দুটি মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে-একটি চারুকলা আর অপরটি উদীচী। মঙ্গল শোভাযাত্রা আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে উভয় সংগঠনই বানায় ভিন্নধর্মী ব্যানার ও ফেস্টুন। পহেলা বৈশাখ সকাল সাতটায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে চারুকলার পক্ষ থেকে সকলকে রাখিবন্ধনের মাধ্যমে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। সকাল আটটায় মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও চারুকলার আয়োজনে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে দিনব্যাপী চলবে লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রার পূর্বে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বাঙালি সাজ প্রতিযোগিতা, গুণীজন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পতাকা তুলে দেন গুণীজনরা। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখের দিন শিশুদের গ্রামীণ খেলনা উপহার দেয় চারুকলা। সার্বিক আয়োজন সফল করতে এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুসঙ্গ হিসেবে বিশাল আকৃতির হাতি ও বাউল তৈরি করা হয়। ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের বকুলতলায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় উদীচীর বর্ষবরণের আয়োজন। প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ববৃন্দ সকাল আটটায় শিশুদের হাতে রাখি পড়িয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধণ করেন। এছাড়া ব্রজমোহন বিদ্যালয় মাঠে উদীচীর আয়োজনে ১লা বৈশাখ থেকে তিন দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা। পাশাপাশি চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরিশালের শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের সাংগঠনিক সম্পাদক মিথুন সাহা জানান, বর্ষবরণে তারা তিনদিনের বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করেছেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শব্দাবলীর বৈশাখী উৎসবে থাকবে লোকজ সঙ্গীত ও বাউল সঙ্গীত পরিবেশন। বর্ষবরণ উপলক্ষে নগরীর প্লানেট পার্কেও আয়োজন করা হয়েছে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এদিকে বর্ষবরণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন। মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার (ডিবি) নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, শহরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুলিশের যে কর্মসূচি রয়েছে তা এবার বাদ দেয়া হয়েছে। বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণস্থানে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।