দশ মাসে সড়কে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থীর তাজা প্রাণ!
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। থেমে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্ন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে বরের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে একই বিশ্ববিদ্যালরে ৩ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ১৬ আগস্ট রাতে ঢাকার মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির এমবিএ’র শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার, জান্নাত ও আকিব নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাদিয়ার স্বামী ইকরাম মিয়াও নিহত হয়েছেন ওই দুর্ঘটনায়। গত ২৫ জুন নিহত হয়েছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ছাত্র জিহাদুল ইসলাম। ওই মাসের ১১ তারিখ নিহত হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের ছাত্র আকিব রেজা। একই মাসের ৫ তারিখ নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস টেকনোলজির ছাত্র মো: তাওহীদুল ইসলাম। ১৬ আগস্ট কোলকাতায় বন্ধুর সঙ্গে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সড়কে নিহত হয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারহানা ইসলাম তানিয়া। ৯ সেপ্টেম্বর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র শান্ত হোসেনের। এর আগে ৫ মার্চ সড়কে নিহত হয়েছেন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাকিব চৌধুরী তুর্য। ৪ ফেব্রুয়ারি নিহত হন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকিব কাজী শেহজাদ হক সাম্য। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরিদুলের মৃত্যু হয়েছে নামাজরত অবস্থায়। হবু বরের সঙ্গে প্রাইভেটকারে ঘুরতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী জারিন জাহরা। এছাড়া প্রিমিয়াম ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাজ্জাদ বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সড়কে নির্মমতার শিকার হয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্য। উবার মটোতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কাভার্ডভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়েছেন তিনি। গত ২ ফেব্রুয়ারি নিহত হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুসরাত। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুলহাস জীম। গত ১৯ মার্চ নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এনিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। গত ২৩ মার্চ মাত্র ১০০ টাকার জন্য সড়কে পিষ্ট করা হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো: ওয়াসিম আহনাফকে। গত ০১ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাদেকুল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সড়কে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে নিহত জন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী মিলু রানী মণ্ডলের। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফরহাত লামিয়া নিহত হন ১৩ আগস্ট। পড়াশোনা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সানি নিহত হন গত ১১ সেপ্টেম্বর। মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিহত হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাজ্জাদ। সর্বশেষ গত ২২ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুমাইয়া। নিহতদের অনেকেই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সড়ক নিরাপদ হওয়ার আগেই অনিরাপদ পৃথিবী ছেড়ে তারা না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ঢাবিতে ভর্তির পর একদিনও ক্লাস করা হয়নি সুমাইয়ার : গত শিক্ষাবর্ষে (২০১৮-১৯) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সুমাইয়া আক্তার। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ১১মাস চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি। না ফেরার দেশে চলে গেছেন সুমাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির একদিনও ক্লাস করা হয়নি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওই ছাত্রীর। ২২ নভেম্বর রাতে সুমাইয়া সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জানা গেছে, সুমাইয়ার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়ায়। ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়ে সুমাইয়া ভর্তি হন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্লাস শুরু হয় ৬ জানুয়ারি। ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে আসার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনার মারাত্মক আহত হন তিনি। বেশ কিছু হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় সুমাইয়াকে। তবে সুস্থ অবস্থায় আর ফিরে আসেনি সুমাইয়া। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই মারা যান তিনি।