|
চলছে অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির উৎসব
থামছে না বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এখানে। নানা উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির উৎসব চলছে এই দপ্তরে। জানা যায়, কয়েকজন ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিজে নেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে গুনে গুনে বুঝে নেন কমিশন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচিত বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক (আসবাবপত্র) প্রকল্পের ৬০টি কাজের মধ্যে ২৯টি কাজের প্রাপ্ত খতিয়ানানুসারে বর্নিত ২১টি কাজ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মেসার্স মা কনস্ট্রাক্টশন নামক প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন, যা আজও অধিকাংশ কাজ সমাপ্ত করেন নাই। কাজগুলো হচ্ছে-বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দের আঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাকাল নিরঞ্জন বৈরাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-১০১৫০৭০, কার্যাদেশের তারিখঃ ০২/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ১৫/০৬/২০২৫ইং), রত্নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-১০৫১৮২৬, কার্যাদেশের তারিখঃ ০২/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা), টরকি বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-১০৫১৮৮৩০, কার্যাদেশের তারিখঃ ২৬/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২২ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা), গৌরনদী উপজেলার পালরদী মাধ্যমিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি- ১০১৫০৭১, কার্যাদেশের তারিখঃ ২৫/০৩/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ১৫/০৫/২০২৫ইং), পিঙ্গলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-১০১৫০৭২, কার্যাদেশের তারিখঃ ০২/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ১৫/০৬/২০২৫ ইং), বানারীপাড়া উপজেলার পশ্চিম ইলুহার মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি- ১০৫১৮৩৩, কার্যাদেশের তারিখঃ ৩০/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২৩ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ২২/০৬/২০২৫ইং), উজিরপুর উপজেলার কুড়ালিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুলাদী উপজেলার বানীমদ্দন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-৮৬৪৭১৪, কার্যাদেশের তারিখঃ ০২/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ১৫/০৬/২০২৫ইং), সফিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরপদ্মা আফসারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গৌরিপুর কাদিরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-৮৬৪৭১৬, কার্যাদেশের তারিখঃ ০২/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ১৫/০৬/২০২৫ইং), চানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি- ৮৬৪৭১৫, কার্যাদেশের তারিখঃ ০২/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা), বরিশাল সদর উপজেলার হিজলতলা মৌলভীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-৮৬৪৭১৭, কার্যাদেশের তারিখঃ ১৯/০৫/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২০ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ১৫/০৬/২০২৫ইং), কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-১১০৫৯১২), বুখাইনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ছোট রগুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি- ১০৫১৮৩২, কার্যাদেশের তারিখঃ ৩০/০৬/২০২৫ইং, চুক্তি মূল্যঃ ২৩ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা, কাজ সমাপ্তির/হস্তান্তরের তারিখঃ ২২/০৬/২০২৫ইং), পশ্চিম নলুয়া রাবেয়া বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুধলমৌ এ. কিউ এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মধ্যম মহেষপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নলুয়া আবুল কাশেম মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (টেন্ডার আইডি-১১০৫৯১৩)। বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সে এভাবেই দূর্নীতির দূর্গ গড়েছেন। তার দূর্নীতির দূর্গ সচল রাখতে তিনি ঢাকাস্থ সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনকে প্রতি সপ্তাহে ইলিশের ঝুড়ি পাঠাতেন। এরফলে তিনি কোন নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, সমঝোতার নামে নির্বাহী প্রকৌশলী অনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন। শিক্ষা প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা জানান, অসাধু প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিণ্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ঠিকাদারদের থেকে প্রতি প্রকল্পের নির্ধারিত অনৈতিক ঘুষ ও পার্সেন্টিস নিয়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হয়েছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। তিনি বর্তমানে নিজেকে জামায়াত সমর্থিত কর্মকর্তা দাবী করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল কতৃক অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের গত ২৭/০৭/২০২২ ইং ঘোষিত আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এসব বিষয়ে দুদক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ অনুসন্ধান করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা জানান, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ৭-৮ জনের একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের ছত্রছায়ায় থেকে বড় বড় প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের এসব কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মোটা অঙ্কের কমিশন দিচ্ছেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, বরিশাল জেলার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহীকে ম্যানেজ করে অসাধু ঠিকাদার সিণ্ডিকেট অনেক প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রকৌশলী এতটাই বেপরোয়া ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে প্রকল্পের কাজগুলো দিয়েছেন। তবে এই ঠিকাদাররা কাজ করে না, চড়া দামে সাধারণ ঠিকাদারদের কাছে প্রকল্প বিক্রি করে দেয়। এতে করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তথ্য সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ও তার সকল দুর্নীতি-অনিয়মের একান্ত সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, শহিদ-আশিক মিলে শিক্ষা প্রকৌশলে কায়েম করেছে অনিয়মের রাম-রাজত্ব। তাদের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্যের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা অতিষ্ঠ। তবে প্রভাবশালী ৬-৮ জনের ঠিকাদাররাই এখানে সর্বেসর্বা। সাধারণ ঠিকাদারদের নানাভাবে হেনস্থা করেন তারা। তবে এসব বিষয়ে গণমাধ্যম থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সকল দুর্নীতি-অনিয়মের একান্ত সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান এসকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেব না, তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সপ্তাহাধিক পূর্বে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী গনমাধ্যমে এমন কথা বললেও ফলাফল শূণ্য। উচ্ছাসে-উদ্যোমে দূর্নীতি আর অনিয়ম করে যাচ্ছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।
Post Views: ০
|
|