Current Bangladesh Time
মঙ্গলবার আগস্ট ৪, ২০২৬ ৩:২২ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » এখন ডাক্তারদের বিশাল দায়িত্ব – ডা: এবিএম আবদুল্লাহ 
Friday April 10, 2020 , 12:28 pm
Print this E-mail this

ডাক্তাররা যত কিছুই বলুক মানবিকতার ব্যাপারতো একটা রয়েই গেছে, যুদ্ধের ময়দানেও আহত সৈনিকদের চিকিৎসা দিতে হয়

এখন ডাক্তারদের বিশাল দায়িত্ব – ডা: এবিএম আবদুল্লাহ


ডা: এবিএম আবদুল্লাহ : আমরা এখন বিপদজ্জনক জায়গায় চলে এসেছি। শুরুতেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তবুও লোকাল ট্রান্সমিশনটা হয়েই গেল। এটা শুধু দেশে নয় বিশ্বের প্রায় ২০৮টা দেশে হয়েছে। এটা এমন না যে আমরা কিছু করি নাই বলে এসেছে। তাহলে সারা বিশ্বে কেন ছড়াল আমেরিকার মতো দেশও কি কিছু করে নাই।পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে যদি তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে আমাদের দেশে এখনো অতটা বাড়ে নাই। হয়ত স্টেপ বাই স্টেপ কিছুটা হচ্ছে। তার কিছু কারণ রয়েছে। যেমন সরকার স্কুল ছুটি দিল। সবাই ফুর্তি করে বেড়াল। ছুটি দেওয়ার উদ্দেশ্য কিন্তু তা ছিল না। কথা হলো সরকার তার কাজ করছে কিন্তু জনগণ যদি সচেতন না হয় তাহলে সরকার কিছুই করতে পারবে না। কারণ এতে সবার সম্মিলিত পদক্ষেপ লাগবে। এই যে গার্মেন্টস সেক্টর। হঠাৎ করে হাজার হাজার লোক চলে আসল। ট্রাকে করে গাদাগাদি করে কিভাবে ঝুকি নিয়ে আসলো। আবার পর দিন চলে গেল এটাকে অসঙ্গতি বলেন আর যাই বলেন তাতে কিছুটা ছড়িয়ে গেছে। যদিও এখন আক্রান্ত মৃত্যু দুটোই কিছু বেড়েছে। আমি মনে করি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। বাকি দিনগুলোতে যদি আমরা আরেকটু সচেতন হই, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করি তাহলে আশা করি কন্ট্রোল করতে পারব। ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসতেছে যে তারা করোনা ভয়ে অন্য রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন না এটা হতে পারে না। মানুষ তো শুধু করোনা রোগ নিয়ে আসে না অন্যান্য রোগ নিয়েও তো আসে। ভয়ে আমরা যদি সব চিকিৎসা বন্ধ করে দেই তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? একজন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এসব ঘটনা শুনলে ক্ষুব্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক। একজন ইন্টার্নী ডাক্তারের মা অসুস্থ হয়েছে তাকে নিয়ে ঐ ডাক্তার কয়েকটি হাসপাতালে গেছে কেউ রাখে না। এটা তো হতে পারে না। ডাক্তাররা যত কিছুই বলুক মানবিকতার ব্যাপারতো একটা রয়েই গেছে। যুদ্ধের ময়দানেও আহত সৈনিকদের চিকিৎসা দিতে হয়। হ্যাঁ ডাক্তারও ভয় থাকলে সে তো মানুষ সেতো করোনায় আক্রান্ত হতেই পারে। অনেক ডাক্তার চিকিৎসা করতে চাইলেও তার ফ্যামিলি কিন্তু দিচ্ছে না বাপ-মা ভাই-বোন এরা বাধা দিচ্ছে। এটা কিন্তু উচিত নয়। অনেক হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ চিকিৎসা হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এজন্যই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি ডাক্তারদের প্রতি রাগান্বিত হয়ে বলেছেন তা কিন্তু নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য হলো ডাক্তাররা চিকিৎসা করতেই হবে। তার প্রটেকশনের ব্যবস্থা সরকার করবে। আর এখন তো সে সমস্যাটা নেই। আমি মনে করি ডাক্তাররা তার প্রটেকশন চাইলে দিতে হবে এবং তারা চিকিৎসা করতেই হবে। আমাদের সরকার চেষ্টা যে করেনি তা কিন্তু ঠিক না। মাস্ক বলেন, পিপিই বলেন সবই এখন আমাদের সাফিসিয়েন্ট রয়েছে। বৃটেনের মতো দেশে পলিথিনের ব্যাগ মাথায় দিয়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। এটা শুধু আমাদের দেশের একার সমস্যা নয় সারা বিশ্বের মানুষের সমস্যা। যেমন আমেরিকায়ও এ সমস্যাটা আছে। আমি ডাক্তারদের কাছে আবেদন জানাব পারসোনাল প্রটেকশন যা আছে তা নিতেই হবে। আমরা রোগী ফেরাব না। দায়িত্ব পালন করে যেতেই হবে। ডাক্তারদের এখন বিশাল দায়িত্ব। কারণ আল্লাহ তায়ালার পর ডাক্তারদের মানুষ বিশ্বাস করে। শুধু ডাক্তার না নার্সসহ সবাই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন এ জন্যই তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য তাদের প্রতি দরদ দেখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। যদি কোনো অঘটন ঘটে যায় তাহলে একটি স্বাস্থ্য বীমার ঘোষণাও তিনি দিয়েছেন। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ডাক্তারদের জন্য সবই করবেন কিন্তু তারা যেন সেবাটা ঠিকমত দেয়। ডাক্তারদের রোগী দেখে বুঝতে হবে কারণ তিনি তো হিস্টোরি নিবেন। কেউ যদি এসে বলে বুকে ব্যথা শ্বাস কষ্ট তার মানে তো করোনা নয়। পেটে ব্যাথা যে করোনার লক্ষণ নয় এটা ডাক্তার বুঝবেন। একটা ঝুকি আছে সর্দি, কাশি, জ্বর থাকলে। এগুলোর প্রপোজালও আমি দিয়েছি। ফ্লু করোনার সিনটম হয়েছে এমন ফ্লু ছাড়া বাকি রোগীদের চিকিৎসা করা যাবে না তা নয়। পিপিই নিয়ে ফ্লু রোগীদের চিকিৎসা করবে। সোসাইটি অব মেডিসিন ঠিক করে দিয়েছে কোনটা করোনা লক্ষণ। সন্দেহ থাকলে ফ্লু কর্নারে নিয়ে যেতে হবে। ভয়ের বেশি কিছু দেখছি না। করোনা প্রতিরোধ আসলে একার কাজ নয়। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা করতে পারবে না। ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, এমনকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজও আছে। এটা আসলে সবাই যদি সম্মিলিতভাবে কাজ না করি তাহলে কোনো কাজ হবে না। কারণ ক্ষমতা এখন করোনার হাতে। যত শক্তিই থাক করোনার কাছে কিছুই না। অনেক প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর করোনার কাছে নত হয়ে গেছেন। কিছুই করতে পারছে না। এ অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবী বলেন আর যাই বলেন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে জনগণ যেহেতু সম্পৃক্ত থাকবে কিন্তু তাদের সচেতনও হতে হবে। যেমন সেনাবাহিনী বার বার মাইকে বলতেছে দুরত্ব বজায় রাখার জন্য। এটা কেউ মানতে চাচ্ছে না। এটা অবশ্যই মানতে হবে। জনগণকে সচেতন হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য ব্যবস্থা করেছেন। সাংবাদিকরা যে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করছেন। ইতালি ফেরতকে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন। রাস্তায় পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী তাদেরও ঝুঁকি আছে। তাদের জন্যও কিছু করা দরকার। আমার মনে হয় এই বিষয়টা সরকার বিবেচনায় রাখতে পারেন।

লেখক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন।




Archives

Image
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা সদৃশ বস্তুর রহস্যজনক বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
Image
গরমে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে ২০-২৫ বার লোডশেডিং
Image
বরিশালে সংবাদ সংগ্রহ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি
Image
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে : রহমাতুল্লাহ
Image
বরিশারে অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ফেরারী আসামী ফয়জুল হক গ্রেপ্তার