|
মানুষের কল্যাণে নিজেকে কতটুকু নিয়োজিত করতে পারলাম, আমার কাছে সেটাই বিবেচ্য
আগামীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : ‘চলে যাব তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ কবি সুকান্তের ভাষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার জানালেন তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা। শেষ কর্মদিবসে নিজ কার্যালয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। কেননা আমার নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রিত্ব নয়, মানুষের কল্যাণে নিজেকে কতটুকু নিয়োজিত করতে পারলাম, আমার কাছে সেটাই বিবেচ্য।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুরে তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সরকারের মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে তিনি এ কার্যালয়ের গুরুত্ব ও কর্মীদের দায়িত্ব সম্পর্কে কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আগামীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সেখানে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদটা থাকবে না। আয় বৈষম্যটা কমিয়ে এনে সকলে যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থাটাই আমরা করতে চাই। আমি থাকি বা না থাকি, আপনাদের কাছে আবেদন এটাই থাকবে—আপনারা আপনাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন, কারণ আপনারা সরকারি কর্মচারী। আপনাদের বেতন-ভাতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকাতেই হয়। কাজেই তাদের সেবা করা, কল্যাণ করা আপনাদের দায়িত্ব।’ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, মহাপরিচালক বেগম নাসরিন আফরোজ, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম, এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুজিবুর রহমান, প্রটোকল অফিসার খুরশীদ আলম, সহকারী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি কিন্তু নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন্তা করি না। আমি হচ্ছি বাবার কন্যা ‘ফাদারস ডটার’। সন্তান হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করি। আমি জাতির পিতার কন্যা। আমি আপনাদের কাছে এটুকুই চাইব, আপনারা সব সময় আমাকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা হিসেবেই আপনাদের একান্ত আপনজন হিসেবে দেখবেন। সেটাই আমি চাই। সেটাতেই আমি গর্বিত বোধ করি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। প্রধানমন্ত্রিত্ব, এটা একটা দায়িত্ব। সেটার মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাই। দেশের কল্যাণ করার একটা সুযোগ পাই। সেটাই আমার কাছে বড়।” সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর একটানা থাকায় অনেক কাজ করে যেতে পেরেছি। এখনো বহু কাজ বাকি। সেটাও নির্ভর করে বাংলাদেশের জনগণের ওপর। আগামী ৩০ তারিখে যদি তারা ভোট দেয় তাহলে আবার আসতে পারব এবং কাজগুলো শেষ করতে পারব। আর তা না হলে মানুষের ভাগ্য মানুষ বেছে নেবে। এখানে আমার কোনো ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। কেননা আমার নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি এ কথা সব সময় চিন্তা করি যে আমার বাবা এ দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। তাঁর মনে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষকে নিয়ে, সেই আকাঙ্ক্ষা যেন আমি পূরণ করে যেতে পারি। যেন তাঁর আত্মা শান্তি পায়—বাংলাদেশের মানুষ আজ আর কষ্টে নেই, তারা দু-বেলা পেটভরে খেতে পারছে।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমরা তো পাঁচ বছরের জন্যই নির্বাচিত হয়ে আসি। আমার সৌভাগ্য যে দ্বিতীয়বার আসতে পেরেছি। তাই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আজ দৃশ্যমান হয়েছে। আমাদের এই শাসনামলে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের জীবনমানের আরো উন্নয়ন করাই আগামী দিনের লক্ষ্য। এ জন্য আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রত্যেকটি গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছি, যাতে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা গ্রামের মানুষ পেতে পারে। কোনো মানুষ অবহেলায় থাকবে না।’ প্রধানমন্ত্রী পরে তাঁর কার্যালয়ের মেইন গেটের সামনের দেয়ালে স্মৃতিময় ১৯৫২ থেকে একাত্তরের মুক্তিসংগ্রাম পর্যন্ত বাঙালির গৌরবের ইতিহাসসমৃদ্ধ একটি টেরাকোটার ম্যুরাল পরিদর্শন করেন। ছাত্রলীগ নেতা মুহম্মদ আরিফুজ্জামান নুর নবী এই ম্যুরালের ভাস্কর।
সূত্র : কালের কণ্ঠ
Post Views: ০
|
|