|
পেশাগত দায়িত্বে ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান ও নির্দোষ
ভুল বোঝাবুঝির অবসান, অভিযোগ প্রত্যাহার
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসা অঙ্গনে আস্থা, নির্ভরতা আর মমতার আরেক নাম ডাঃ তহুরা আক্তার। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার খ্যাতি বরিশাল ছাড়িয়ে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে। দীর্ঘ কর্মজীবনে হাজারো মা ও নবজাতকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি। গভীর পেশাগত দক্ষতা, অগাধ অভিজ্ঞতা আর রোগীর প্রতি অকৃত্রিম মমতার কারণে সাধারণ মানুষ ভালোবেসে তাকে ডাকেন ‘গাইনী মাস্টার’ নামে। চিকিৎসক হিসেবে তিনি শুধু ওষুধ দেন না, দেন ভরসা। তার চেম্বারে গেলে রোগীর অর্ধেক কষ্ট যেন তার হাস্যোজ্জ্বল মুখ আর কোমল ব্যবহারেই লাঘব হয়ে যায়। এমন একজন মানবিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছিল, অবশেষে তার অবসান ঘটলো। সত্যের জয় হলো, জয় হলো মানবতার। জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেগপ্রবণ হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নগরীর জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা আফিয়া রহমান নিয়ন। অভিযোগে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডাঃ সোহেল মিয়া ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাঃ তহুরা আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়। এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচারে মেতে ওঠে এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকের দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মানহানি করার চেষ্টা করে। তবে বিবেকের তাড়নায় এবং প্রকৃত সত্য অনুধাবন করে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। তারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অবহেলা, গাফিলতি বা বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। যা ঘটেছে, তা ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা (Unwanted Complication) মাত্র। এই উপলব্ধি থেকেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী আফিয়া রহমান নিয়ন নিজে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
তার প্রত্যাহারপত্রে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন :—
“গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির বশবর্তী হয়ে আমি অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সোহেল মিয়া ও ডাঃ তহুরা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। পরবর্তীতে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, উক্ত ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং এতে কারো কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। বর্তমানে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে সুরাহা হওয়ায় আমি উক্ত অভিযোগটি আর বজায় রাখতে ইচ্ছুক নই এবং স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।” ভুক্তভোগী পরিবারের এই মহানুভবতা ও সত্য স্বীকারের সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বরিশালের সুশীল সমাজ ও চিকিৎসক মহল। তাদের মতে, ভুল বোঝাবুঝি মানুষেরই হয়, কিন্তু ভুল স্বীকার করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করাই বড় মনের পরিচয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ডাঃ তহুরা আক্তার তার পেশাগত দায়িত্বে ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান ও নির্দোষ। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী বলেন, “ডাঃ তহুরা ম্যাডামকে আমরা মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি। তার কাছে গেলে মনে হয়, আমরা নিরাপদ হাতে আছি। এমন একজন মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মেনে নেওয়া যায় না। আজ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত।” কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জমা পড়ার মধ্য দিয়ে এই বিতর্কের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলো। একই সাথে অসাধু চক্রের চালানো সকল অপপ্রচারেরও যবনিকাপাত ঘটলো। ডাঃ তহুরা আক্তার আবারও তার কর্মস্থলে আগের মতোই মমতা ও নিষ্ঠার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের মা ও শিশুদের সেবায় নিয়োজিত আছেন।
Post Views: ০
|
|