Current Bangladesh Time
মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:০২ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » ডা. অমিতাভের কাছে হাজারো রোগীর জিম্মিদশা, কমিশন বাণিজ্য ও হয়রানি 
Monday August 31, 2026 , 9:17 pm
Print this E-mail this

একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার অভিযোগ

ডা. অমিতাভের কাছে হাজারো রোগীর জিম্মিদশা, কমিশন বাণিজ্য ও হয়রানি


মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজের নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা—নিরীক্ষা করানো, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানো এবং এসবের মাধ্যমে কমিশন নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মো. মাসুম নামে এক ব্যক্তি ডা. অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, বরিশালের বেলভিউ হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসেস, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল ও কেএমসি হাসপাতালের সঙ্গে ডা. অমিতাভ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা বিপুলসংখ্যক রোগীকে বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা বা ভর্তি করানোর সুপারিশ করা হয়। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগীকে সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব পরীক্ষার বিপরীতে কমিশন নেন ডা. অমিতাভ। অন্যান্য পরীক্ষা—নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় এবং কমিশনের একটি অংশকে ‘লেস’ হিসেবে রোগীর টেস্ট স্লিপে লিখে আই ওয়াশ করা হয়। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বেড ভাড়া ও চিকিৎসাসেবা বাবদও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতি রাউন্ডের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া এবং সুস্থ রোগীদেরও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়ে নির্দিষ্ট ফিজিওথেরাপি সেন্টারে পাঠানোর বিনিময়ে কমিশন গ্রহণের করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যেই ডা. অমিতাভ সরকার বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন। এতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর জন্য দালাল ব্যবহার করা হয়। এদিকে বেলভিউ হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা ও শেয়ার সংক্রান্ত বিষয়েও ডা. অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির একটি বৈধ কমিটি তার প্রভাবে ভেঙে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের শেয়ার ক্রয় নিয়েও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ডা. অমিতাভ সরকারের আয়কর নথি নিয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আয়কর নথি অডিটের সময় অনিয়ম ধরা পড়লেও পরবর্তীতে এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে থেকে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়, রোগীদের পরীক্ষা—নিরীক্ষা থেকে কমিশন গ্রহণ, ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ডা. অমিতাভ সরকারকে শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বদলি এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এসব অভিযোগ একবাক্যে অস্বীকার করে ডা. অমিতাভ সরকার বলেন, আমি আমার নামে বেলভিউ কিংবা কেএমসি হাসপাতালে শেয়ার নেইনি। রোগীদের পরীক্ষার কমিশনের কোন টাকা আমি নেইনা, এটা রোগীদেরকে ডিসকাউন্টের জন্য আমার বলা আছে। ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার কোন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তাছাড়া শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজে আমি যথযথ সার্ভিস দেই। আমি রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে যাই দুপুর দুইটার পরে। সবশেষ তিনি বলেন, আমার বিরূদ্ধে কেউ অভিযোগ দিয়েছে এমন কোন তথ্য আমি জানি না।




Archives

Image
ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
Image
দেড় বছরের হৃদরোগী নন্দিতার পাশে অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ
Image
বরিশাল প্রেসক্লাব কল্যাণ তহবিলে বিসিসি প্রশাসকের লাখ টাকা অনুদান
Image
বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিসিসির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
Image
বরিশাল মহানগর পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা